বিটিএমএর আহ্বান
জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করে বস্ত্র শিল্পে গ্যাস দিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০
গ্যাস সংকটে বস্ত্র খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা কারখানায় গ্যাস থাকে না। কোনো কোনো এলাকায় সরবরাহ লাইনে গ্যাস থাকলেও পর্যাপ্ত চাপ থাকে না। এতে উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমেছে। বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে ৬০ শতাংশ কারখানা। অন্তত ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা না হলে মুখ থুবড়ে পড়বে এ খাত। এতে গোটা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা। জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট (আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত বাজার) থেকে গ্যাস আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। প্রয়োজনে গ্যাসের বেশি দাম দিতেও রাজি আছেন তাঁরা। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বস্ত্র খাতের সংকটের কথা তুলে ধরেন বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ফজলুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক মোশাররফ হোসেন, আবদুল্লাহ জোবায়ের, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মোনালিসা মান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গত মার্চে গ্যাসের সংকট শুরু হয়। জুলাইয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের শ্রীপুর, ধনুয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে বস্ত্রকলগুলোয় দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, বস্ত্রকলের প্রযুক্তিই এমন যে, মেশিনে গ্যাসের সংযোগ পাওয়ার আরও ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর উৎপাদনে যাওয়া যায়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে উৎপাদন বন্ধ থাকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা। গ্যাসের এই আসা- যাওয়াও অনিয়মিত। কোনো কোনো এলাকায় বিকেল ৫টায় গ্যাস আসে, রাতে থাকে, সারাদিন থাকে না। এতে উৎপাদন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
মোহাম্মদ আলী খোকন জানান, সাধারণত, এক কেজি সুতা উৎপাদনে ১ ডলার ২৫ সেন্টের মতো খরচ হয়। গ্যাস সংকটে ব্যয় বেড়ে আড়াই ডলারে পৌঁছেছে। কাপড় রং করা অর্থাৎ ডাইং এবং ফিনিশিংয়ের মান খারাপ হচ্ছে। এতে বস্ত্র খাতের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, এ খাতে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ১০ লাখ কর্মসংস্থান রয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ কাঁচামাল জোগান দিচ্ছে বস্ত্রকলগুলো। এ ছাড়া ৮০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বস্ত্র ও পোশাকের জোগান দিচ্ছে বস্ত্র খাত।
এর আগে এক উপস্থাপানায় বিটিএমএ সভাপতি বলেন, পেট্রোবাংলা থেকে ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন কিউবিক ফিট পার এ ডে) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ৩৬০ এমএমবিটিইউ (ওয়ান মিলিয়ন ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) পাওয়ার কথা। বর্তমানে ইউনিটপ্রতি ১৬ টাকা ৩৩ পয়সা হারে গ্যাস মূল্য পরিশোধ করছেন তাঁরা। এর সঙ্গে এলএনজির স্পট মার্কেট থেকে ২০০ এমএমসিএফ আমদানির মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করা সম্ভব। এভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে তাঁরা গ্যাসের দর সর্বোচ্চ ২২ টাকা ৮৪ পয়সা পর্যন্ত দিতে রাজি আছেন। এ রকম আরও কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনার জন্য বিটিএমএর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্নিষ্ট বিভাগে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে গ্যাসের বর্ধিত দর দেওয়া হলে সুতা এবং কাপড়ের দাম বেড়ে শিল্প রপ্তানি সক্ষমতা হারাবে কিনা- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, দর বাড়লে অবশ্যই তাঁরা চাপে পড়বেন। তবে একেবারেই গ্যাস না থাকার চেয়ে বেশি দামে পাওয়া গেলে সেটা তুলনামূলক ভালো। এ ছাড়া গ্যাস আমদানি বাবদ ২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হলেও সাশ্রয় হবে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে পোশাক রপ্তানি কমে যাবে, এতে বিদেশি মুদ্রার মজুত পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। অনেক রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। কারখানা বন্ধ হবে। উদ্যোক্তারা ঋণখেলাপি হবেন। ব্যাংক ব্যবস্থায় পুঁজির সংকট দেখা দেবে। শ্রমিক বেকার হবে। সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেবে। অর্থাৎ গোটা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে।
- বিষয় :
- বিটিএমএ
