করোনাভাইরাস
সতর্কতার পাশাপাশি ঘাটতিও অনেক
×
চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশফেরত যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বুধবারের ছবি - মো. রাশেদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০ | ১৩:৪৯
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। প্রবেশ করেছে বাংলাদেশেও। করোনাভাইরাস ছড়িয়েপড়া প্রতিরোধে দেশের প্রবেশপথগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে গৃহীত ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।
এদিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত মঙ্গলবার থেকে চালু হয়েছে নতুন থার্মাল স্ক্যানার।
সমকালের চট্টগ্রাম ও সিলেট ব্যুরো জানায়, নতুন থার্মাল স্ক্যানার বসানোর পর যাত্রীদের করোনা শনাক্ত করা সহজ হয়ে গেছে। এ দুটি বিমানবন্দরে দ্রুতই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হচ্ছে।
দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এটিও এখন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন।
গতকাল বুধবার শাহজালাল বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায় অন্য সময়ের চেয়ে দর্শনার্থীর ভিড় কম। ভেতরে একটিমাত্র থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে বিদেশ থেকে আসা সাধারণ যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাগছে। বিমান ভ্রমণে ক্লান্ত যাত্রীদের জন্য এটা অতিরিক্ত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। থার্মাল স্ক্যানারের পাশাপাশি হ্যান্ড ইনফ্রা-রেড স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের একটি হেলথ ডিক্লারেশন কার্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনেক এয়ারলাইন্সে পর্যাপ্ত হেলথ কার্ড নেই। ফলে বিমানবন্দরে নেমে তাদের এই কার্ড সংগ্রহ করে তথ্য পূরণ করতে হচ্ছে। এতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্ডে যাত্রীদের নাম-ঠিকানা রেখে পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইনের নম্বর দেওয়া হচ্ছে।
মাত্র চারটি ডেস্কে ডাক্তারসহ ১৬ জন কর্মী বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা গ্লাভস, অ্যাপ্রনসহ নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসারসহ অন্য কর্মীরা নিজেরাই খুব বেশি সুরক্ষিত নন। কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরলেও অনেককেই খালি হাতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্লাভস ও মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসামগ্রী ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে মাস্ক সংগ্রহ করেছেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনাভাইরাস আক্রান্তদের শনাক্তের সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে বিমানবন্দরের একজন পরিচালক দাবি করেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্কসহ নিরাপত্তাসামগ্রী রয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে সন্দেহভাজন বা আক্রান্ত যাত্রীদের যেসব অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতেও করোনা প্রতিরোধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলো সন্দেহভাজন যাত্রী বহনের পর সঠিক নিয়মে জীবাণুমুক্ত করা হয় না।
করোনার কারণে বিমানযাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা কমে গেছে। এতে বিমানবন্দরের ভেতরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও খাবার স্টলগুলোর বেচাকেনা কমে গেছে। আন্তর্জাতিক টার্মিনালের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী প্রবেশের কনকোর্স হলে থাকা কয়েকটি খাবারের স্টলের কর্মীরা জানান, বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দরে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আগমন কমে গেছে। আগে যেখানে দিনে ত্রিশ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা আট থেকে নয় হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
জানতে চাইলে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান সমকালকে বলেন, তাদের তিনটি থার্মাল স্ক্যানার ছিল। আরেকটি নতুন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিআইপি জোনে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য দুটি স্ক্যানার রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার সকালে যাত্রীদের অসহনীয় চাপে একটি নষ্ট হয়। পরে সেটি ঠিক করা হলেও একটি স্ক্যানারেই গতকাল যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অন্যটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চতুর্থটি আগেই নষ্ট হয়েছে, এটা আর ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যাদের শরীরে বেশি তাপমাত্রাসহ করোনা সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দুটি ডেস্ক ছিল। আরও দুটি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট নামলে যাত্রীর ভিড় বেড়ে যায়। তখন বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা অস্থির হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বড় কিউয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এতে সময় লাগলেও সতর্কতার জন্য এটা করতে হয়েছে। তৌহিদ-উল আহসান বলেন, যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ করে থাকে। তারা সহযোগিতা করেন।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের পাশাপাশি দেশীয় যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপরও জোর দেওয়া উচিত। কারণ কোনো কারণে স্থলবন্দর বা অন্য কোনো বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত নাও হতে পারে। পরে সে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করতে পারে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক রুটে কমেছে যাত্রী চলাচল :বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়েপড়ার কারণে আকাশপথে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এরই মধ্যে দশটি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ফ্লাইট চলাচল সীমিত করেছে। বিমানবন্দর সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা ও যাত্রীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইউএস বাংলাসহ বেসরকারি কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক রুটে প্রায় ৫০ শতাংশ যাত্রী চলাচল কমেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মোকাব্বির হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক দশটি রুটে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে- কুয়ালালামপুর, কাঠমন্ডু, কলকাতা, দিল্লি, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দোহা, জেদ্দা, মদিনা ও কুয়েত।
বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে তাদের সাতটি ফ্লাইট ছেড়ে যেত চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর এ রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। কাতারগামী ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত মঙ্গলবার থেকে চালু হয়েছে নতুন থার্মাল স্ক্যানার।
সমকালের চট্টগ্রাম ও সিলেট ব্যুরো জানায়, নতুন থার্মাল স্ক্যানার বসানোর পর যাত্রীদের করোনা শনাক্ত করা সহজ হয়ে গেছে। এ দুটি বিমানবন্দরে দ্রুতই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হচ্ছে।
দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এটিও এখন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন।
গতকাল বুধবার শাহজালাল বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায় অন্য সময়ের চেয়ে দর্শনার্থীর ভিড় কম। ভেতরে একটিমাত্র থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে বিদেশ থেকে আসা সাধারণ যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাগছে। বিমান ভ্রমণে ক্লান্ত যাত্রীদের জন্য এটা অতিরিক্ত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। থার্মাল স্ক্যানারের পাশাপাশি হ্যান্ড ইনফ্রা-রেড স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের একটি হেলথ ডিক্লারেশন কার্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনেক এয়ারলাইন্সে পর্যাপ্ত হেলথ কার্ড নেই। ফলে বিমানবন্দরে নেমে তাদের এই কার্ড সংগ্রহ করে তথ্য পূরণ করতে হচ্ছে। এতেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীদের পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্ডে যাত্রীদের নাম-ঠিকানা রেখে পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইনের নম্বর দেওয়া হচ্ছে।
মাত্র চারটি ডেস্কে ডাক্তারসহ ১৬ জন কর্মী বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা গ্লাভস, অ্যাপ্রনসহ নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসারসহ অন্য কর্মীরা নিজেরাই খুব বেশি সুরক্ষিত নন। কেউ কেউ হাতে গ্লাভস পরলেও অনেককেই খালি হাতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত অনেক কর্মী অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্লাভস ও মাস্কসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসামগ্রী ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে মাস্ক সংগ্রহ করেছেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনাভাইরাস আক্রান্তদের শনাক্তের সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে বিমানবন্দরের একজন পরিচালক দাবি করেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্কসহ নিরাপত্তাসামগ্রী রয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে সন্দেহভাজন বা আক্রান্ত যাত্রীদের যেসব অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতেও করোনা প্রতিরোধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরে আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলো সন্দেহভাজন যাত্রী বহনের পর সঠিক নিয়মে জীবাণুমুক্ত করা হয় না।
করোনার কারণে বিমানযাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা কমে গেছে। এতে বিমানবন্দরের ভেতরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও খাবার স্টলগুলোর বেচাকেনা কমে গেছে। আন্তর্জাতিক টার্মিনালের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী প্রবেশের কনকোর্স হলে থাকা কয়েকটি খাবারের স্টলের কর্মীরা জানান, বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বিমানবন্দরে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আগমন কমে গেছে। আগে যেখানে দিনে ত্রিশ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা আট থেকে নয় হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
জানতে চাইলে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান সমকালকে বলেন, তাদের তিনটি থার্মাল স্ক্যানার ছিল। আরেকটি নতুন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিআইপি জোনে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য দুটি স্ক্যানার রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার সকালে যাত্রীদের অসহনীয় চাপে একটি নষ্ট হয়। পরে সেটি ঠিক করা হলেও একটি স্ক্যানারেই গতকাল যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অন্যটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চতুর্থটি আগেই নষ্ট হয়েছে, এটা আর ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যাদের শরীরে বেশি তাপমাত্রাসহ করোনা সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দুটি ডেস্ক ছিল। আরও দুটি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট নামলে যাত্রীর ভিড় বেড়ে যায়। তখন বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা অস্থির হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বড় কিউয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এতে সময় লাগলেও সতর্কতার জন্য এটা করতে হয়েছে। তৌহিদ-উল আহসান বলেন, যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ করে থাকে। তারা সহযোগিতা করেন।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের পাশাপাশি দেশীয় যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপরও জোর দেওয়া উচিত। কারণ কোনো কারণে স্থলবন্দর বা অন্য কোনো বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত নাও হতে পারে। পরে সে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানে এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করতে পারে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক রুটে কমেছে যাত্রী চলাচল :বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়েপড়ার কারণে আকাশপথে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এরই মধ্যে দশটি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ফ্লাইট চলাচল সীমিত করেছে। বিমানবন্দর সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা ও যাত্রীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইউএস বাংলাসহ বেসরকারি কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক রুটে প্রায় ৫০ শতাংশ যাত্রী চলাচল কমেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মোকাব্বির হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক দশটি রুটে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে- কুয়ালালামপুর, কাঠমন্ডু, কলকাতা, দিল্লি, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দোহা, জেদ্দা, মদিনা ও কুয়েত।
বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সপ্তাহে তাদের সাতটি ফ্লাইট ছেড়ে যেত চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর এ রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। কাতারগামী ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
