মৃত্যুতেও জীবনের গান
মাত্র ২০ বছর বেঁচে ছিলেন সারাহ ইসলাম। মৃত্যুর আগে করে যান দেহদান। তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলো দুই ব্যক্তির দেহে। কর্নিয়াও আলো ফোটাল দুই অন্ধজনের। মায়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল সারার এই ছবি এখন কেবলই স্মৃতি- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:৪৯ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:৪৯
মৃত্যু অমোঘ, অনিবার্য। কিন্তু মরণযাত্রায় জীবনের গান যাঁরা গাইতে পারেন, তাঁরাই অমর হন। তেমনই সাহসী মেয়ে সারাহ ইসলাম ঐশ্বর্য। তারুণ্যে সদ্য পা রাখা মেয়েটি অনন্তলোকে পাড়ি জমানোর পথে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুকে ঐশ্বর্যময় করে গেছেন। যেতে যেতে তাঁর কিডনিতে বাঁচিয়ে গেছেন দু'জন বিপন্ন মানুষের প্রাণ। নিজের জীবন প্রদীপ নিভলেও, তাঁর কর্নিয়ায় জ্বেলে গেছেন দুই অন্ধজনের চোখের আলো।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ২০ বছর বয়সে মহাসিন্ধুর ওপারে চলে গেছেন সারাহ ইসলাম। বহু বছর দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে সাহসের সঙ্গে লড়াই করা মেয়েটি দান করে গেছেন কিডনি ও কর্নিয়া। বৃহস্পতিবার সারাহর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয় চারজন ব্যক্তির শরীরে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হলো। সারাদেশের মানুষের কাছে সাহসের অপর নাম হিসেবে গণ্য হচ্ছেন তিনি।
মেয়ে হারানোর অতল শোক নিয়েও সারাহ ইসলামের মা শবনম সুলতানা একজন গর্বিত জননী, রত্নগর্ভা। সমকালকে বললেন, সারাহ খুব ছোটবেলায় দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু অসুখ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মানুষের বিপদে ছুটে যেত। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হোক, নারী নিরাপত্তায় প্রতিবাদ হোক, সবকিছুতে থাকত সামনের সারিতে। সারাহ জানত একদিন চলে যাবে। কিন্তু যতদিন ছিল, মানুষের জন্য কিছু করে গেছে। যেতে যেতেও মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গেল।
সারাহ ইসলাম স্কেলেরোসিস নামে জটিল রোগে ভুগছিলেন।
