বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
পূর্বাভাসের চেয়েও মোকা ছিল শক্তিশালী
ঘূর্ণিঝড় মোকা’র কারণে উত্তাল ছিল সাগর
জাহিদুর রহমান
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৩ | ০৫:৪৫
উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোকা আঘাতের তিন দিন পরও চলছে নানা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বলছেন, ‘দুর্বল’ মোকা নিয়ে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ভুল ছিল। এমনকি আবহাওয়াবিদরা আতঙ্ক ছড়িয়েছেন বলেও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করছেন। তবে আবহাওয়া বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, মোকা পূর্বাভাসের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। আগে থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে না নিলে সেন্টমার্টিনে প্রাণহানি হতো। কারণ, ঘূর্ণিঝড়ে প্রবাল দ্বীপটিতে অতীতে কখনও এমন ধ্বংসযজ্ঞ হয়নি। বিশেষজ্ঞদের এমন দাবির যথার্থতাও মিলছে।
সেন্টমার্টিনের পরতে পরতে ঠিকরে বের হচ্ছে ক্ষতচিহ্ন। আর কেন্দ্রস্থল যেখানে আঘাত হেনেছে মোকা, সেই মিয়ানমারের রাখাইনে কয়েকশ প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে আলজাজিরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা নোয়ার ঘূর্ণিঝড় বিশেষজ্ঞ জেফ মাসটারস বলেছেন, ‘মোকা খুবই শক্তিশালী ছিল। এটি বাংলাদেশের কাছের বঙ্গোপসাগরে ঠান্ডা পানি ও শুষ্ক বাতাসের কারণে দুর্বল হয়ে যায়। তবে মিয়ানমারে এটি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে আঘাত হানে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে মোকার বিস্তৃতি ছিল ৭০০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু উপকূলের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এসে তা হয়ে যায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার। এর ফলে বাঁ দিকে শক্তি কম ছিল এবং ৬ ঘণ্টার মধ্যে এটি সেন্টমার্টিন উপকূল অতিক্রম করে। এত অল্প সময়েও সেন্টমার্টিনে যে ক্ষতি হয়েছে, অতীতে কোনো ঝড়েই হয়নি। আগাম পূর্বাভাস ও মানুষকে আগেভাগে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ায় প্রাণহানি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোকা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস সঠিক ছিল। আমরাও প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষণ করে সংকেত দিয়েছি। দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, এতে কোনো ভুল ছিল না।’
সমুদ্রবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফিক অ্যান্ড মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার দাশ বলেন, ‘মোকা পূর্বাভাসের চেয়েও শক্তিশালী ছিল, যা এরই মধ্যে নোয়ার হারিকেন সেন্টারের বিজ্ঞানীর স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে প্রমাণিত। এবার যাঁরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছেড়ে যেতে পারেননি বা যাননি, তাঁদের জীবন ঝুঁকিতে ছিল, তা তাঁদের কথায় উঠে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস কখনও শতভাগ সঠিক হয় না। তবে দুর্যোগের পূর্বাভাস আমলে না নেওয়া মানে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।’ মোকা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরমার্শ দেন তিনি।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ‘অনেকে মোকাকে দুর্বল আখ্যা দিলেও সমুদ্রে থাকা অবস্থায় এটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ৩২৪ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়েল ক্লাইমেট কানেকশন ওয়েবসাইট বলছে, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গত ৩৩ বছরের ইতিহাসে বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হলো মোকা। সেন্টমার্টিনে আঘাতের সময় জোয়ার না থাকায় জলোচ্ছ্বাস হয়নি।’
এদিকে, সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোকা স্থলভাগে আঘাতের সময় (রোববার দুপুর ১২টা) বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৫৯ কিলোমিটার। মিয়ানমারের সিত্তে শহরে ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়।
- বিষয় :
- ঘূর্ণিঝড় মোকা
- মোকা
- জলোচ্ছ্বাস
