ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিমানবন্দরে দায়িত্বের আড়ালে স্বর্ণ পাচার

বিমানবন্দরে দায়িত্বের আড়ালে স্বর্ণ পাচার
×

প্রতীকী ছবি

শহিদুল আলম

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৩ | ০৫:৪৯

পেশাগত দায়িত্ব পালনের আড়ালে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। প্রায়ই এ বিমানবন্দরে অবৈধ পণ্যসহ কোনো না কোনো কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় চোরাই স্বর্ণবার, মদ, বিয়ার, সিগারেটসহ নানা পণ্য। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাঁদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর একই বিমানবন্দরে কর্মরত আছেন অসাধু কর্মীরা। অভিযোগ আছে, তাঁদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সখ্য রয়েছে।

গত ১২ জুন কাতার থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইউএস-বাংলার একটি যাত্রীবাহী বিমান। এ সময় স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটি ঘিরে নজরদারি বাড়ান বিমানবন্দর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত টিমের সদস্যরা।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীবেশী একটি চোরাকারবারি দলের বহন করা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এয়ারলাইন্সের কোনো সদস্যের মাধ্যমে অন্যত্র পাচার করা হবে– এমন তথ্য ছিল। যাত্রীরা নামার পর বিমানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। আগেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জামাল ভুঁইয়া বিমান থেকে কৌশলে স্বর্ণবারের চালানটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডাস্টবিনে লুকিয়ে রাখে। পরে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে শনাক্ত করে ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয় ৬ হাজার ৯৬০ গ্রাম স্বর্ণ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।

ঊর্ধ্বতন এক শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরে ১৪ কেজি স্বর্ণবারসহ হারুনুর রশীদ নামে একই এয়ারলাইন্সের বাসচালককে আটক করা হয়। এ ঘটনায় স্বর্ণ পাচার চক্রটির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

শুধু ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মী নন, বিমানবন্দরে কর্মরত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

গত রোববার শাহজালাল বিমানবন্দর বহির্গমন টার্মিনালে গণশুনানিতে বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত। তাদের কারণে বিদেশে ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সূত্র জানায়, শাহজালালসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায়ই ধরা পড়ছে অবৈধ স্বর্ণ, মুদ্রা, মাদকসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য। জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, আদালতের আদেশ জালসহ নানা জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

এরই মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, নানা অভিযোগে বেবিচকের বেশ কয়েকজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মাহবুব আলম তালুকদার সমকালকে জানান, স্বর্ণ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত কর্মীদের ছাড় নেই। বিভাগীয় মামলা তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়া বেবিচকের কর্মীদের বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক জানান, বিমানবন্দরে ডিউটির আড়ালে এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী চোরাচালানে জড়িত। ইউএস-বাংলাসহ বিভিন্ন সংস্থার গ্রেপ্তারকৃত কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাছাড়া মামলাগুলোর তদন্ত চলমান আছে। মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×