সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল
প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপনে অনিয়ম তদন্তে কমিটি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ১৬:৪৩ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ১৬:৪৩
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ও মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য বিএসএমএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়াটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহছেন চৌধুরীকে সভাপতি করে চার সদ্যস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
গত সোমবার বিএসএমএমইউ উপাচার্য গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুরের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী সুজন রায় কিডনি গ্রহণ করেছেন। কিডনি দিয়েছেন তাঁর ছোট ভাই ৩১ বছর বয়সী সুসেন রায়। এর মধ্য দিয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রথম কোনো প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হলো।
বিএসএমএমইউর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কিডনি দাতা সুসেন প্রকৃত অর্থে কিডনি গ্রহীতা সুজন রায়ের কোনো ভাই বা নিকটাত্মীয় নন। কিডনি দাতাকে বিদেশে পাঠানো এবং নগদ টাকা আর্থিক লেনদেনের মতো ঘটনা ঘটেছে। দেশের বর্তমান আইনে আপন ভাইকে কিডনি দেওয়া যায়। আইনানুগ নিকটাত্মীয় ছাড়া কারও কিডনি নেওয়া যায় না।
বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক রোনাল প্রতিস্থাপন সার্জন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে সোমবার ২৫ জন চিকিৎসক কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর আগে সকালে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় সুজন রায়ের ছেলে সাগর রায় জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা গ্রিসে থাকতেন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে জানতে পারেন, কিডনি দুটি বিকল। এরপর তাঁকে দেশে নিয়ে আসা হয়। কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সুজনকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেয় পরিবার।
আর্থিক লেনদেন ও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, ‘আমাদের কাছে যখন কোনো রোগী দাতা নিয়ে আসেন, আমরা তখন দেখি দাতা সুস্থ কিনা। কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হাসপাতালে একটি পরিচয় শনাক্তকারী কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে একজন পরিচালক, একজন আইন কর্মকর্তা ও সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। তারা মূলত এটি তদারক করে থাকেন।’
বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য যত ধরনের আইনগত বিষয় রয়েছে, সব ধাপ মেনেই কাজটি হয়েছে। কিডনি গ্রহীতা রোগী সুজন রায় এবং কিডনি দাতা সুসেন রায়– তারা সত্যিই আপন ভাই কিনা তার দায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের ওপর বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা কোনো কর্মকর্তার ওপর বর্তায় না।
- বিষয় :
- বিএসএমএমইউ
- কিডনি
- কিডনি প্রতিস্থাপন
