ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে স্বনির্ভর হচ্ছেন তরুণরা

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে স্বনির্ভর হচ্ছেন তরুণরা
×

ফাইল ফটো

সাজিদা ইসলাম পারুল

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৩ | ২৩:৪৯

 রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের পরিমাণ। পরিবেশ, বন ও জনবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার ৩০ শতাংশের বেশি হয় রাজধানীতে। বর্তমানে ঢাকায় বছরে প্রায় আড়াই লাখ টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। যার কিছু রিসাইকেলিং বা পুনর্ব্যবহার হলেও অধিকাংশ বর্জ্য থেকে যাচ্ছে পরিবেশে, যা হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিবেশ স্বাস্থ্যের জন্য। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজধানী ঢাকায় ‘ওয়েস্ট টু ওয়েলথ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এ প্রকল্পের মূল কথা– বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে শহর ও শহরতলির বায়ুদূষণ রোধ।

 জানা গেছে, দূষণ রোধ ছাড়াও বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের কর্মকাণ্ডকে নতুন দিশা দিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ২০২১ সালে ইউএনডিসির সহায়তায় একটি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তাতে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে অংশ নেয় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল ‘ওয়েস্টটেক’। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরাধে তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা ছিল পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে প্লাস্টিককে সৌন্দর্য পণ্যে রূপান্তর। তাদের এই ভাবনা মনে ধরে নীতিনির্ধারকদের। এর মাধ্যমেই শুরু হয় ‘ওয়েস্ট টু ওয়েলথ’ প্রকল্প। ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্মকর্তারা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বর্জ্য রিসাইকেলিংয়ের একটি টেকসই মডেল দাঁড় করাতে চান তারা। এ ছাড়া প্রকল্পের লক্ষ্য, বর্জ্য থেকে তৈরি সৌন্দর্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় অসচ্ছল নারী ও তরুণদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি। ফলে কাজ শুরু হয় সেখানেই। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের জন্য বাছাই করা হয় ৬০ জনকে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয় ওয়েস্টেক। তাদের মধ্যে ১২ জন যোগ্য বিবেচিত হয়। তারাই পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, কাচের বোতল, ক্যান, পলিথিন ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন ঘর সাজানোর পণ্য তৈরি করেন। এ ছাড়া তৈরি হচ্ছে ফুলদানি, পেন হোল্ডার, ফেইরি জার লাইট, ইকো ব্যাগ ইত্যাদি। ব্যবহার উপযোগী এসব পণ্য বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করা হয়। আবার সরাসরি নিজের ফেসবুক পেজ থেকেও বিক্রি করেন কেউ কেউ।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের টঙ্গী অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, বর্জ্য থেকে নতুন পণ্য তৈরির জন্য আরও প্রয়োজন হয় সিমেন্ট, প্লাস্টার অব প্যারিস, কাগজের বোর্ড, রং ইত্যাদি। এসব উপকরণ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিনামূল্যে সরবারাহ করে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বানানো এসব পণ্য টঙ্গীর একটি উপহার সামগ্রীর দোকানে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বানানো পণ্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজন উত্তরোত্তর প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে বাজারজাতকরণ ও বিপণনকে সঠিক দিশায় এগিয়ে নিতে পারলে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশনস অ্যান্ড কোয়ালিটি) চন্দন জেড গোমেজ। এই কার্যক্রম শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×