গণস্বাস্থ্যের করোনা টেস্টিং কিট হস্তান্তর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:১০ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:১৯
করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত টেস্টিং কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সরকারের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রতিনিধিদের কাছে এই কিট হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর এটিএম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে করোনা শনাক্তকরণে উদ্ভাবিত 'জিআর কভিড-১৯ ডট ব্লট' র্যাপিড টেস্টিং কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিএসএমএমইউ ও সিডিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিট হস্তান্তর করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা।
সরকারের কোনো প্রতিনিধি না আসার বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয় তারা আজকে (শনিবার) আসতে পারবেন না। রোববার দুপুর ১২টায় তারা সময় দিয়েছেন। এখন তাদের কাছে কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি ফোনে জানিয়েছেন, অসুস্থ, তাই আসতে পারবেন না। আর্মি প্যাথলজি ল্যাবরেটরিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পায়নি বলে আসতে পারবে না জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিও আসার কথা ছিল। তারাও আসেননি।
ডা. জাফরুল্লাহ আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তিন দিন আগে অনুষ্ঠানে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার কাছ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। তিনি এখন অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ। কারণে-অকারণে অনেক ব্যস্ত আছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ কিট যাচাই-বাছাই করে খুব দ্রুত অনুমোদন দেবে। অনুমোদন প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই উৎপাদন শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিট উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল, গবেষণা দলের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকারসহ অন্যান্য গবেষক।
ড. বিজন কুমার শীল জানান, অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন এ দুটির সমন্বয় করে কিট তৈরি করা হয়েছে। এটি পাঁচ মিনিটের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে করোনা রোগী শনাক্ত করতে পারবে।
বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে বাংলাদেশ এখন আমদানি করা কিটের ওপরই নির্ভর করছে। গত মার্চে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র জানায়, তারা করোনা শনাক্তের কিট উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। ১৯ মার্চ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে করোনাভাইরাসের কিট উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়। সম্প্রতি চীন থেকে কাঁচামাল (রি-এজেন্ট) আসার পরপরই কিট তৈরির কাজ শুরু হয়। বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কাজে যুক্ত রয়েছেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমির উদ্দিন ও ফিরোজ আহমেদ। গণস্বাস্থ্যের কিট সফল হলে দেশে করোনা রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এই পদ্ধতি করোনাভাইরাস পরীক্ষায় খরচ হবে তিনশ' থেকে সাড়ে তিনশ' টাকা।
- বিষয় :
- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র
- করোনাভাইরাস
- কিট