বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নম্বরপত্র হারানোর অভিযোগ বিষয়ে প্রভাষক জয়নাবের ব্যাখ্যা
জয়নাব বিনতে হোসেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৪৯ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:২১
শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র হারিয়ে ফেলার অভিযোগ নিয়ে সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জয়নাব বিনতে হোসেন।
বুধবার এক প্রতিবাদপত্রে জয়নাব বিনতে হোসেন প্রতিবেদনটি নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'সংবাদে বলা হয়- আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষের ২য় সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র হারিয়ে ফেলেছি, যা অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেননা আমি সেই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কেবলমাত্র পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানই সকল প্রশ্নপত্র, নম্বরপত্রসহ গোপনীয় বিষয়গুলো সংরক্ষণ করবেন।'
প্রতিবাদপত্রে জয়নাব বলেন, 'গত জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত উক্ত মৌখিক পরীক্ষার সময় বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সকল বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কলা অনুষদের ডিন জনাব মো. আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া। সে হিসেবে সকল নম্বরপত্র তাঁর কাছেই সংরক্ষিত থাকার কথা। মৌখিক পরীক্ষার দিন সকালে কিছুটা সময় তিনি বোর্ডে উপস্থিত থাকলেও কাজে ব্যস্ততার কথা বলে সদস্য হিসেবে আমাকে, বিভাগের অন্য আরেকজন শিক্ষক ও বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন অধ্যাপককে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। সারাদিন মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার পর বিকেলে শেষ হলে তিনি বিভাগে উপস্থিত হন এবং নম্বরপত্রে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে চলে যান। তারপর সেটি আর আমাদের কারো কাছে থাকার কথা নয়।'
তিনি বলেন, 'এরপর আমি চিকিৎসাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিই। তাই সেটি আমার দায়িত্বেও ছিল না। এমনকি আমাকে অফিসিয়ালি কখনো নম্বরপত্র হারানোর বিষয়টি জানানোও হয়নি। তাই পরীক্ষা কমিটির সভাপতি, বিভাগের চেয়ারম্যান কিংবা পরীক্ষা কমিটির অন্য সদস্যদের বাদ দিয়ে ছুটিতে থাকা কেবলমাত্র আমাকেই দোষারোপ করা নীতিবিরুদ্ধ ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এতে করে সামাজিকভাবে আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করি। বরং এই গোপনীয় নম্বরপত্র সভাপতি ব্যতিরেকে অন্য কারো কাছে সংরক্ষণ করা আইনবিরোধী।'
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, 'প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখ থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুই মাসের জন্য আমি ভারতের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছুটি নিই। দুই মাস পর চিকিৎসা শেষ হলে তৎকালীন উপাচার্য খোন্দকার নাসিরুদ্দিনকে আমার পিএইচডি গবেষণা, পিতা-মাতার অসুস্থতা ও জটিল অপারেশন এবং পর্বতারোহণের জন্য আরো ছুটি মঞ্জুর করতে আবেদন করি। তিনি আমাকে অবৈতনিক অসাধারণ ছুটি নিতে বলেন। এরপর থেকে আমি বিনা বেতনের ছুটিতে আছি।'
প্রভাষক জয়নাব বলেন, 'উল্লেখ্য, আমি বাংলাদেশের একজন প্রশিক্ষিত পর্বতারোহী। হিমালয় পর্বতে বেশ কিছু অভিযানে অংশ নিয়েছি এবং ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার ইচ্ছা আছে আমার। বিএনসিসি খুলনা রেজিমেন্ট থেকে পর্বতারোহী হিসেবে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিইউও-ও নির্বাচিত করা হয়। আমার এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আরো বেশ কিছু অভিযানে যাওয়ার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে অবৈতনিক ছুটি নিই। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি'
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়
- গোপালগঞ্জ
