ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

জরিপ

গ্রামীণ অঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়নে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর পদক্ষেপ

গ্রামীণ অঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়নে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর পদক্ষেপ
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৯:০৭ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ১১:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। শিক্ষা অধিকার সংসদের এই জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, বর্তমান শিক্ষা বাজেট দেশের চাহিদা ও উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদ এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। এতে জরিপের ফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনটির সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদের পক্ষ থেকে আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। 

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ ছিলেন স্নাতক এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করার বিষয়টি। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জরিপে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুর্নীতি, অপচয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়; বরং সেই অর্থের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই শিক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। জরিপের সার্বিক ফলাফলে প্রতীয়মান হয়েছে, দেশের শিক্ষার্থীরা এমন একটি শিক্ষা বাজেট প্রত্যাশা করেন, যা শুধু ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গুণগত শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং সুশাসনভিত্তিক শিক্ষা সংস্কারকে এগিয়ে নেবে।

আরও পড়ুন

×