ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

আবরার হত্যায় রুমমেট মিজান পাঁচ দিনের রিমান্ডে

'পেটানোর সময়ে আমাকে বের করে দেওয়া হয়'

'পেটানোর সময়ে আমাকে বের করে দেওয়া হয়'
×

ডিবি পুলিশের সঙ্গে (কালো টি-শার্ট পরা) মিজান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৫৪

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার তার রুমমেট মিজানুর রহমান মিজান জানিয়েছেন, আবরারকে পেটানোর সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার পুলিশ মিজানকে রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করলে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আবরার হত্যার চার দিন পর গত ১০ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে মিজানকে আটক করে মামলার তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা এবং পরে প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে মিজানের সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত হয়ে বুধবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মিজানের রিমান্ড শুনানির সময়ে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তখন বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনার আইনজীবী আছে?' মিজান জবাব দেন, 'না'। বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করেন, 'আপনি কি আবরারের রুমমেট?' মিজান উত্তরে বলেন, 'জি, আবরার আমার রুমমেট।' এরপর আদালত প্রশ্ন করেন, 'আপনি কোন বিভাগের?' মিজান জবাব দেন, 'পানিসম্পদ বিভাগের।'

রিমান্ড শুনানি শেষে মিজানকে কাঠগড়া থেকে নামানোর পর সাংবাদিকরাও তার কাছে তথ্য জানতে চান। ওই সময় তিনি বলেন, 'আবরারকে ডেকে নেওয়ার পরে ২০১১ নম্বর কক্ষে গিয়েছিলাম। তখন আমাকে কয়েকজন নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিল। তাকে পেটানোর সময়ে আমাকে বের করে দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে ১৬ ব্যাচের দুই বড় ভাই বলেন, তুই চলে যা। এরপর আমি চলে আসি।'

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা হল-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ছাড়াও ১৭ ব্যাচের অন্তিম, রাফি ও মিজান থাকতেন। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর রাতে আবরারকে ডেকে নেওয়ার সময়ে তার সঙ্গে রুমে ছিলেন অন্তিম। রাফি ও মিজান বাইরে ছিলেন।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট ডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবরারের রুমমেট মিজান ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে আবরারের বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিলেন।

গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। ওই ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে আটজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×