ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

অগ্রিম আমদানি করুন এক বছরের নিত্যপণ্য

অগ্রিম আমদানি করুন এক বছরের নিত্যপণ্য
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

নিরাপদ মজুদ নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আগাম আমদানি বা 'ফরওয়ার্ড পারচেজ'-এর জন্য আমদানিকারকদের অনুরোধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব আমদানিকারককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ ও সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকারকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে থাকে। এসব আমদানি সাধারণত মৌসুমভিত্তিক হয়ে থাকে। এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দেশের নিত্যপণ্যের চাহিদার নিরিখে আগামী এক বছরের অগ্রিম আমদানি কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে। এতে আমদানিকারকরা সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানি করতে পারবেন যা বন্দর থেকে পর্যায়ক্রমে খালাসযোগ্য হবে। ক্রেতারা সারা বছর সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন সমকালকে বলেন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার পূর্বাভাস আছে যে, বিশ্বে খাদ্য পণ্যের উৎপাদন কমতে পারে। যেহেতু একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ধরনের আশঙ্কা করেছে, সেজন্য পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের আমদানির জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সহযোগিতার দরকার হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করবে। সরকার চায় প্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করতে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কোনো কোনো দেশ খাদ্য পণ্য রপ্তানিতেও এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। কাজাখস্তান গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা নিয়েছে। রাশিয়াতেও এ বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে যে মন্দা দেখা দিয়েছে তা মোকাবিলা করতে অনেক দেশ শুল্ক্ক ও কর হারে পরিবর্তন আনতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ যাতে ঠিক রাখা যায় সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফরওয়ার্ড পারচেজ হচ্ছে আগাম পণ্য কেনার ব্যবস্থা। ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে আগাম বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড, সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ, মুম্বাই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ আগাম ক্রয় বা ফরোয়ার্ড পারচেজের প্ল্যাটফর্ম। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আগাম ক্রয়ের বিষয়ে একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। তবে এই অনুমোদন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এ ছাড়া আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের সম্পর্কের ভিত্তিতে বর্তমান মূল্যে স্পট মার্কেট থেকেও আগাম কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রপ্তানিকারক আমদানিকারককে পিআই (প্রফর্মা ইনভয়েস) পাঠায়। এটি এক ধরনের মূল্য ও সরবরাহ বিবরণী, অর্থাৎ পণ্যের দাম, কোথা থেকে কীভাবে এবং কবে নাগাদ সরবরাহ করা হবে তা উল্লেখ থাকে। এর মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ তিন দিন। ওই দামে এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী আমদানিকারক পণ্য নিতে চাইলে তিন দিনের মধ্যে নিশ্চিত করে এলসি খুলতে হয়।
দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা এ বিষয়ে বলেন, স্বাভাবিকভাবে কোম্পানিগুলো বাজার চাহিদা বিবেচনা করে আমদানির পরিকল্পনা করে থাকে। সে অনুযায়ী এলসি খোলা হয়। সাধারণত এলসি খোলার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে জাহাজীকরণ করেন রপ্তানিকারকরা। এসব পণ্য দেশে আসার সাথে সাথেই বাজারে ছাড়া সম্ভব হয় না। ফলে গুদামজাত করতে হয়। প্রত্যেকটি কোম্পানিরই গুদামজাত করার নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে অনেক পণ্য জমে গেছে। এখন অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করে রাখার সুযোগ বিশেষ নেই। এর পরও সরকার যখন চাইছে, নিশ্চয় কোম্পানিগুলো আলোচনা করে একটা উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি কী হবে তা অনিশ্চিত। কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। আবার সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে ফরওয়ার্ড পারচেজ করার সুযোগ থাকলে তা করা ভালো। তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক পণ্যের দাম কম আছে। ফলে আমদানিকারকদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কিনে রাখতে পারে। এ ছাড়া এখন দেশে না এনে ভবিষ্যতে আনা যাবে, সেই শর্তেও কিনে রাখা যেতে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, গম, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন মসলা পণ্যে আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেল, চিনি, গম, ডাল ও কিছু মসলা পণ্য আমদানি করে মজুদ করা যেতে পারে। দেশের নিত্যপণ্যের চাহিদার পুরোটাই জোগান দেয় বেসরকারি খাত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সংকটের সময়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শহর পর্যায়ে সামান্য পণ্য বিক্রি করে থাবে।




আরও পড়ুন

×