ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনাকাল

রোগী সেবা থেকে দাফন সবখানেই তারা

রোগী সেবা থেকে দাফন সবখানেই তারা
×

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

'আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ যখন যেখানে যেভাবে মৃত্যু লিখে রেখেছেন, সেভাবেই হবে। অযথা মৃত্যুভয় আমার মধ্যে নেই। তাই যখন দেখলাম করোনায় মৃতদের জানাজা-দাফনের লোক পাওয়া যাচ্ছে না, সিদ্ধান্ত নিলাম আমি এই কাজ করব। তাৎক্ষণিকভাবে তিন বন্ধুকেও পাশে পেলাম। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানালাম এ কথা। এরপর উৎসাহী অনেককে যেমন পাওয়া গেল।' এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন স্বেচ্ছাসেবী জুনায়েদ আহসান। তিনি ও তার ছয় বন্ধু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই নানারকম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনা আক্রান্তদের।
জুনায়েদ আহসান 'বিডি আর্তসেবা ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, তার বন্ধুদের একটি দল অনেক আগে থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে আসছিল। তারা নিয়মিত রক্ত দিতেন। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এখন তাদের প্রত্যক্ষ সদস্য তিন শতাধিক। আর ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত আছেন দুই হাজারের বেশি সদস্য। তারাও দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে কমবেশি তৎপরতা চালান। করোনার কারণে সক্রিয় সদস্যদের অনেকেই বাড়িতে গিয়ে আটকে পড়েছেন। ঢাকায় এখন যারা কাজ করছেন,তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ আবীর, হৃদয় হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, মনির হোসেন, কাজী আবদুল হাকিম ও দেলোয়ার হোসেন।
জুনায়েদ জানান, তাদের এক স্বেচ্ছাসেবক করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেখতে যান বন্ধুরা। ওই সময় তার মনে হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন মানুষেরা অনেক কষ্টে আছেন। স্বজনরা রোগীর কাছে যেতে পারেন না বলে খাবার, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ঝামেলা পোহাতে হয়। কিছু রোগীর ওষুধ বা ফল কেনার মতো টাকাও নেই। এসব দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, করোনা রোগীদের সেবায় কাজ করবেন।
কথায় কথায় জানা গেল, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ফ্রি হলেও কিছু ওষুধ রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে হয়। আবার ডাক্তাররা লেবু, মাল্টা, আদা, মৃদু গরম পানি ইত্যাদি খেতে বলেন। আর্তসেবা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা এসব কিনে দেন। সংগঠনের সদস্যদের চাঁদার টাকায় চলে এ কার্যক্রম। এখন অবশ্য কিছু হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এসেছেন।
জুনায়েদ বলেন, রোগীদের কাছে ফোন নম্বর দেওয়া আছে। দেখা গেল, তাদের কারও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, অক্সিজেন দেওয়ার মতো কেউ আশেপাশে নেই। তখন তারা ফোন করেন। আমরা হাসপাতালের স্টাফদের ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলি। তখনই সমস্যার সমাধান হয়। হাসপাতালটির এক কর্মী আমাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। ফলে কাজের সুবিধা হয়েছে। কারও হয়তো করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে, তবে তা রোগী পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তখন স্বেচ্ছাসেবকরা তাগাদা দিয়ে রিপোর্ট খুঁজে বের করার ব্যবস্থা করেন। আবার কেউ হয়তো হাসপাতালে যাবেন, যানবাহন পাচ্ছেন না। আমরা বিনামূল্যে তার পরিবহনের ব্যবস্থা করে দিই। এ ছাড়া কেউ মারা গেলে মারকাজুল ইসলামের কর্মীরা না আসা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা লাশ পড়ে থাকত। এ ক্ষেত্রে আমরাই লাশ নামিয়ে দিই।
এর বাইরে খাদ্য সহায়তাও দিয়ে থাকে তাদের ফাউন্ডেশন। কোনো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার খুব সংকটে পড়েছে, একেবারেই খাবার জুটছে না, এমন দেখলে তারা বেশ কিছুদিন চলার মতো খাদ্যপণ্য গোপনে পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন

×