ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনাকাল

অসচ্ছল ৩৫ পরিবারের পাশে অবিনাশ বাঙলা

অসচ্ছল ৩৫ পরিবারের পাশে অবিনাশ বাঙলা
×

অবিনাশ বাঙলার কর্মীরা বিতরণ করছেন রান্না করা খাবার - সংগৃহীত

হাসনাইন ইমতিয়াজ

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

প্রতি রাত ৯টার পরই মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে বিখ্যাত 'মজা' রেস্তোরাঁর সামনে কিছু মানুষ জড়ো হন। যাদের বাস আশেপাশেই। সবার হাতে থাকে খাবার নেওয়ার পাত্র। প্রথমে তাদের জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর তাদের পরিবারের সদস্য অনুসারে দেওয়া হয় রান্না করা খাবার।
খাবার তালিকায় থাকে সবজি খিচুড়ি বা ডাল-ভাত। ডাল-ভাতের সঙ্গে থাকে মাছ অথবা মুরগি বা গরুর মাংস। আবার কোনোদিন থাকে সিদ্ধ ডিমের ঝোল। করোনাকালে অসচ্ছল ৩৫ পরিবারের শতাধিক মানুষকে এভাবে প্রতিদিন একবেলা রান্না করা খাবার সরবরাহ করছে সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন অবিনাশ বাঙলা ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির কার্যক্রম মোহাম্মদপুরে।
এপ্রিলের শুরুতে চালু হওয়া এই উদ্যোগে প্রথমে দেওয়া হতো দুপুরের খাবার। এখন দেওয়া হচ্ছে সেহরির খাবার। একই সঙ্গে পরিবারগুলোকে ইফতারের জন্য মাস হিসেবে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, করোনায় লকডাউন শুরু হওয়ার পর ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সবাই। এতে বিপাকে পড়েছেন ভাসমান ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। তাদের অনেকেই দৈনিক খাবারটুকুও জোগাড় করতে পারছেন না। এ ধরনের মানুষের জন্য গত ৪ এপ্রিল থেকে 'করোনাকালে মধ্যাহ্নভোজ কার্যক্রম' নামে একবেলা রান্না করা খাবার বিতরণ শুরু করেছে অবিনাশ বাঙলা।
সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সাদাফ হাসনাইন মানজুর জানান, মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকে বাংলা নতুন বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছিল তাদের। এর মধ্যে শুরু হয় করোনার প্রাদুর্ভাব। তাই অপেক্ষা না করে জনকল্যাণে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমিত সাধ্যের মধ্যে এই দুর্যোগে আমরা তিন ধরনের মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছি। এক. যারা প্রকৃত অর্থেই অভাবী, দুই. যারা অভাবের কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন এবং তিন. যারা পথের মানুষ।
দরিদ্র প্রতিবেশী, দিনমজুর ও রিকশাচালকরা প্রতিদিন তাদের রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। তারা নিয়মিত ১২০ জনের খাবার তৈরি করেন। এর মধ্যে ১১০ জনের খাবার বাসায় যায়। বাকিটা যারা রান্নাবান্না করেন, তাদের পরিবারের জন্য। শুরুতে বেশি খরচ হলেও এখন খরচ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানান সাদাফ। প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়।
রাশেদা নামের এক উপকারভোগী জানান, তিনি ফুটপাতে চা বিক্রি করতেন। দুই মাস ধরে বেচাকেনা বন্ধ। অবিনাশ বাঙলার সহযোগিতা না পেলে এই সময় পরিবার নিয়ে না খেয়েই দিন কাটাতে হতো। অবিনাশ বাঙলার এ কার্যক্রমের সুবিধা পাচ্ছে তাজমহল রোডের আশপাশের কর্মহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন পেশার ৩৫ পরিবার।
প্রথম দিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় খাবার বিতরণ কার্যক্রম চললেও রমজান উপলক্ষে এখন রাত ৯টার পর লোকজন খাবার নিতে আসেন বলে জানান সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা রাসেল মাহমুদ। তিনি বলেন, যদিও তারা সেহরির জন্য খাবার দিচ্ছেন। ডাল-ভাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে চাইলে এ খাবারটুকু তারা রাতেও খেতে পারেন। রমজানে এসব পরিবার যাতে নিজেরা ইফতার তৈরি করতে পারে, এ জন্য ছোলা, পেঁয়াজ, মুড়ি, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরেও স্বপ্নপুরী নামে আরেকটি সংগঠনের সহযোগিতায় পাশের তিন মহল্লার আরও শতাধিক পরিবারের মধ্যে ইফতারের জন্য খাদ্যপণ্য দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ কার্যক্রমে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও স্বজনরা। কেউ দিয়েছেন নগদ অর্থ, কেউ দিয়েছেন চাল আবার কেউ দিয়েছেন পেঁয়াজ, রসুন, তেল। তাজমহল রোডের মজা রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপনায় অবিনাশ বাঙলার এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে নবোদয় সংঘ।

আরও পড়ুন

×