প্লাবনের ঢাকার বাসায় পুলিশের অভিযান
রেজাউল করিম প্লাবন -ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২০ | ১৩:১৬ | আপডেট: ১৫ মে ২০২০ | ১৩:৩০
যৌতুক দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি রেজাউল করিম প্লাবনের ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানা পুলিশ মীরবাগে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার এসআই সুব্রত দেবনাথ সমকালকে বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় প্লাবনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তার ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। বাড়ির মালিক আইরিন আক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্লাবন ৩০ এপ্রিল বাসা থেকে গেছেন, এরপর আর ফেরেননি। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, প্লাবনসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য তৎপরতা চলছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্লাবন নিজ গ্রাম কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা রহমান হাজির গ্রামে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলার অন্য চার আসামি প্লাবনের বাবা-মা এবং দুই ভাইও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
যৌতুক দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে গত ১১ মে হাতিরঝিল থানায় প্লাবনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টার সাজিদা ইসলাম পারুল। গত ২ এপ্রিল যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার প্লাবনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে প্লাবন ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট দাবি করেন। একাধিক নারীর সঙ্গে প্লাবনের অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা জেনে যান পারুল। অনৈতিক সম্পর্কে বাধা ও যৌতুক না দেওয়ায় পারুলের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। মারধরের কারণে পারুলের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পারুল ৫ মে প্লাবনের গ্রামের বাড়ি গেলে সেখানেও মারধরের শিকার হন। প্লাবনের বড় ভাই এমএ আজিজ, ছোট ভাই এসএম নিজাম উদ্দিন, বাবা সামসুল হক ও মা মারধর করেন পারুলকে।
প্লাবনের গ্রেপ্তার দাবি বিডব্লিউজেএফের : সাজিদা ইসলাম পারুলকে নির্যাতনকারী স্বামী সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্টস ফোরাম (বিডব্লিউজেএফ)। শুক্রবার সংগঠনটির সভাপতি মমতাজ বিলকিস ও সাধারণ সম্পাদক শারমীন রিনভী এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন এবং ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে পারুল হাতিরঝিল থানায় যে মামলা করেছেন, সেই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, অন্যায়কারী যেই হোক, তার শাস্তি পাওয়া আবশ্যক। তবেই এই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। প্লাবনের বাইরে ঘুরে বেড়ানো পারুলের জীবনের জন্য হুমকি বলেও মনে করে বিডব্লিউজেএফ।