ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতা কাজে লাগছে করোনা মহামারিতে’

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতা কাজে লাগছে করোনা মহামারিতে’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২০ | ০৯:৪৮ | আপডেট: ১৬ মে ২০২০ | ১০:০৩

মহামারি করোনা মোকাবিলায় দেশে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘোষিত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ক্যাম্পেইন। বর্তমানে প্রায় দেশের কয়েক কোটি মানুষ অনলাইনে যে সকল সুবিধা উপভোগ করছে এই ক্যাম্পেইনের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আয়োজনে করোনা কাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে অনলাইন আলোচনা ‘বিয়োন্ড দ্যা প্যানডেমিক’ অনুষ্ঠান এই মন্তব্য করেন করেন বক্তারা।

আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সঠিক তথ্য সময়মত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্যের উৎস ঠিক না থাকলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও গুজব তৈরি করা সহজ হয়। গত ২০ মার্চ করোনা.জিওভি.বিডি নামক ওয়েবসাইটটি চালুর পর থেকে প্রায় ৬০ দিনে ৮৫ লাখের বেশি মানুষ ভিজিট করেন। ‘৩৩৩’  নম্বরের মাধ্যমে এ পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্যের জন্য আমরা ৭৪ লাখ ফোন কল পেয়েছি।

তিনি বলেন, ৭৮ জনের বেশি ডাক্তারের কাছ থেকে বিদেশে থাকা বাংলাদেশের ১৭০০ এর বেশি মানুষ সেবা নিয়েছে। প্রায় ২ লাখ মানুষ করোনা বিডি অ্যাপস ডাউনলোড করেছেন। যদি গত ১১ বছরে এই ডিজিটাল কাঠামো তৈরি না থাকতো তাহলে এত দ্রুত মোবাইল ফিনেন্স সেবাগুলোকে চালু করা সম্ভব হতো না। ই-কমার্সে নিত্য পণ্য, মেডিসিন সেবায় ওষুধ বা খাদ্য অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কেনা যেত না। ৭০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ। আমরা যতটা করি, ততটা বলতে পারিনা। এবারও আমরা যতটুকু করছি কাজ, তার অনেকটাই আমরা এখনো সকলকে জানাতে পারিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, মহামারিতে আইন প্রয়োগের বিষয়টি তাদের কাছে নতুন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কাজে সফল হয়েছেন তারা।

হাসপাতালের দরজা থেকে শুরু করে কবরস্থান পর্যন্ত এমনকি ত্রাণ বিতরণের মতো কাজও পুলিশকে করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুজিব বর্ষে পুলিশের শপথ ছিল ‘একটি জনমুখী পুলিশ। সেই শপথ রাখতে এই মহামারি আমাদের সহায়তা করেছে। দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭ পুলিশ সদস্য করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন।

মনিরুল বলেন, ভাইরাসটির সংক্রমণের প্রথম দিকে এটি সম্পূর্ণ নতুন ছিল। এখন আমাদের কাছে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) রয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারপোলও এসওপি অনুমোদন দিয়েছে। এসময় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজকে ঘরে রাখতে বাধ্য করার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ওই সব তরুণরা মনে করেন যে করোনা তাদের আক্রান্ত করতে পারবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর ডা. শাহনিলা ফেরদৌসি বলেন, হাসপাতাল ছাড়া বাইরের কাউকে পিপিই পরার কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলছে বলে আমরা দেখিনি। তারপরও হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্ভিসগুলোতে দেয়া হচ্ছে। সচেতনতা তৈরিতে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রদত্ত তথ্যগুলো পৌছে দিতে আমরা চেষ্টা করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম বলেন, আমরা আসলে স্বাধীনচেতা জাতি। ঘরে আটকে থেকে আমরা আমাদের ফ্রিডমটাকে মিস করি। ফ্রিডমের সঙ্গে আরেকটি বিষয় আছে, আর সেটা হলো দায়িত্ব গ্রহণ। ফ্রিডম ইনজয় করলে দায়িত্ব নিতে হবে।

গাউসুল আজম বলেন, কথাগুলো কঠিন করে না বলে, বলা উচিত ছিলো ৩ ফুট দূরে থাকেন বা তিন হাত দূরে থাকুন। গ্রামের মানুষের জন্য আলাদা করে ভাবতে। শুরুতে যেই কনফিউশন তৈরি হয়েছে তা দেখে আমরা এখনো বের হতে পারিনি। আসছে ঈদের ছুটিতে কোরনা কোথাও যাবে না, এই দেশেই থাকবে। সুতরাং আপনার রেসপন্সিবিলিটি কী হতে হবে। আমরা জন সচেতনতা তৈরি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা একটি গান করেছি সম্মেলিতভাবে।

শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি এবং মৃতের সংখ্যা ৩১৪ জন। তবে শেখ হাসিনার প্রথম দিকের হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানিয়েছে, এই সঙ্কটের সময়েও তিনি (শেখ হাসিনা) তার প্রতিভা দেখিয়েছেন। ফোর্বস বলছে, ‘১৬১ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। যেটি এমন সংকটের সঙ্গে অপরিচিত। তিনি তারপরও সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলছেন। যা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দ্বারা প্রশংসনীয়।’

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের স্লোগান ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের; যখন দেশে দুর্বল ইন্টারনেট এবং অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। ডিজিটাল অর্থনীতিতে উন্নতি ও লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলির একটি।

তথ্যমন্ত্রী জানান, তারা শুরু থেকেই রেডিও, টেলিভিশন এবং খবরের কাগজের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে আসছিলেন।

তিনি বলেন, দেশের সকল ডাক্তার, সেলিব্রিটি, অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের সেই কাজে সংযুক্ত করে প্রচারণা চালানো হয়েছিল।আমাদের দেশে প্রাদুর্ভাবের আগেই আমরা প্রচার শুরু করেছি।



আরও পড়ুন

×