করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা
বেসরকারি খাতে ঝুঁকি দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ
×
রাজবংশী রায়
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে ৫২টি ল্যাবের মাধ্যমে চব্বিশ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৭০৪টি নমুনা পরীক্ষা করতে পেরেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশে করোনা সংক্রমণের পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা। আর এই দিনে শনাক্তও সর্বোচ্চ। দুই হাজার ৯১১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পরীক্ষা বেশি হলে সংক্রমিত ব্যক্তিও বেশি শনাক্ত হয়। কিন্তু এ পরীক্ষার পরিধিই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। প্রয়োজন আছে, এমন অনেক মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে পারছেন না। আবার নমুনা দেওয়ার পর রেজাল্ট পেতে তিন-চার দিন লেগে যাচ্ছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর সামনে উপচেপড়া ভিড়। তাদের মধ্যে কমসংখ্যক মানুষই নমুনা পরীক্ষা করাতে সক্ষম হচ্ছেন। অনেকে দুই থেকে তিন দিন ঘুরেও নমুনা দিতে পারছেন না। আবার লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে সামাজিক দূরত্বও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে সুস্থ ব্যক্তিরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, সর্বোচ্চ সংক্রমণের এই সময়ে পরীক্ষার পরিধির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। প্রয়োজন আছে, এমন সবাই যেন পরীক্ষা করাতে পারেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার ব্যয় নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নমুনা পরীক্ষায় পুরোপুরি কাজে লাগানোর কিছু ঝুঁকি আছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
ধীরে চলো নীতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ :অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্বাস্থ্য খাতের উচ্চ পর্যায়ে অধিকাংশ ব্যক্তি করোনা-সংক্রান্ত কেনাকাটা নিয়েই বেশি আগ্রহী। করোনা প্রতিরোধে কার্যকর পরামর্শ, পলিসি নির্ধারণের চেয়ে তারা বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজকর্মে মারাত্মক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, মন্ত্রণালয় কিছু বললেও অধিদপ্তর সেটি শুনছে না। আবার অধিদপ্তর কোনো প্রস্তাব পাঠালে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিতে বিলম্ব করছে। অথচ রোগটি প্রতিরোধে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি করতে পারছে না। এতে রোগটি ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে।
নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দিচ্ছেন জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ আগে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে আরটিপিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিলাম। স্বাস্থ্য বিভাগ সেই সুপারিশ আদৌ আমলে নিয়েছে কিনা তা জানতে পারিনি। করোনাভাইরাস দ্রুত গতিতে ছড়ালেও স্বাস্থ্য বিভাগ চলছে ধীরগতিতে। ভাইরাসের পেছনে ছুটে তো তাকে প্রতিরোধ করা যাবে না। প্রতিরোধ করতে হলে ভাইরাসের আগে ছুটতে হবে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। এ কারণে বিপদ ক্রমেই বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তার সিংহভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ সে বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও মনে হয় না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও লক্ষ্যণীয়। টেকনিক্যাল কমিটির কার্যক্রমটি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন আমরা জোর করে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। গ্রহণ করা বা না করা তাদের বিষয়।
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ ছিল। এরপর ধাপে ধাপে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম বিভাগে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ শুরু থেকে নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়িয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশন ও তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করা গেলে পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্নিষ্টদের এই ব্যর্থতা ও ধীরে চলো নীতির কারণে আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
নমুনা পরীক্ষা বাড়াতেই হবে :পরীক্ষার পরিধি বাড়াতেই হবে উল্লেখ করে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, সার্ক দেশগুলোর মধ্যে নমুনা পরীক্ষার হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর নমুনা পরীক্ষার কাজটি করছিল। ওই সময় বিএমএর পক্ষ থেকে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা আমলে নেয়নি।
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের ভূমিকা ছিল একগুঁয়েমির। তাদের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে শুরুতে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো যায়নি। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও না জেনে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সর্বত্র রোগটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত করেছেন। আইইডিসিআরসহ সংশ্নিষ্টরা আক্রান্তদের কন্টাক্ট ট্রেসিং যথাযথভাবে করতে পারেনি। এতে করে রোগটি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় একদিনে কতসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়াতেই হবে। সেটি প্রতিদিন ২০ হাজারে হবে না। আরও বেশি হতে হবে। যাদের প্রয়োজন আছে, এমন সব মানুষই যেন নমুনা পরীক্ষা করাতে পারেন। আবার সেটির ব্যয় হতে হবে সামর্থ্যের মধ্যে। সাড়ে তিন হাজার টাকায় নমুনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য সবার নেই। এটি মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। জেলা-উপাজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরীক্ষার পরিধি বাড়াতে হবে। কারণ করোনার এই দুর্যোগ থেকে শিগগিরই মুক্তি পাওয়া যাবে না। আরও তিন বছর বা তার বেশি সময় এই ভাইরাসটিকে সঙ্গী করেই হয়তো চলতে হবে। সেই বিবেচনা থেকে নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দুরূহ হবে।
যুক্ত হতে চায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান :করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের নমুনা পরীক্ষায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি বড় বড় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোও যুক্ত হতে চায়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মবিন খান সমকালকে বলেন, দেশে বেসরকারি ৬৯টি মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি রয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ শুরু থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্প্রসারণের বিষয়ে নেতিবাচক ছিল। আইইডিসিআরের বাইরে অন্যসব সরকারি প্রতিষ্ঠানেও তারা পরীক্ষার সুযোগ দিতে রাজি ছিল না। এ কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে আবারও সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মবিন খান।
নমুনা পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ শুরুতে বিষয়টি আমলে নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে পরীক্ষার সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা ছাড়া এই মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
ল্যাডএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীম সমকালকে বলেন, যে সংখ্যক মানুষ নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, তার তুলনায় খুবই কমসংখ্যক মানুষকে বর্তমানে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়াগনস্টিকের অনেক উন্নতমানের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সরকার তাদের কাজে লাগাচ্ছে না। সরকারের একার পক্ষে এই মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যান্য বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানের মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি আছে; সরকারের উচিত তাদের সবাইকে অনুমতি দেওয়া। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করলে প্রতিদিন অন্তত ৮০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষকে নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দেশে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান পপুলার ডায়াগনস্টিকের জেনারেল ম্যানেজার মার্কেটিং আফজাল হোসেন সমকালকে জানান, করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলে প্রাথমিকভাবে ধানমন্ডির প্রধান শাখায় পরীক্ষার কাজ শুরু করা হবে। এর পর ধাপে ধাপে অন্যান্য সেন্টারেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে- বিষয়টি এমন নয়। এই ভাইরাসটি আরও তিন বছর কিংবা তারও বেশি সময় থাকতে পারে। সে জন্য আমরা একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেক জেলায় নমুনা পরীক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হবে। অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট নিয়েও আলোচনা চলছে। ওই র্যাপিড কিট ব্যবহার করা হবে কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কিট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নমুনা পরীক্ষায় পুরোপুরি কাজে লাগানোর কিছু ঝুঁকি আছে। নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহূত আরটিপিসিআর কিট সহজলভ্য নয়। এটি আমদানি করতে হয়। বেসরকারি খাত যুক্ত হলে ওই কিট যখন তারা আমদানি করতে যাবে, তখন সরকারের পক্ষে কিট পাওয়া কঠিন হতে পারে। আবার সেই সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে। এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। যে কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াগত দিকগুলো নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।
গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন্ট কিট ব্যবহার হবে কিনা- এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট ব্যবহার করা হবে না- এ কথা তো আমরা কখনোই বলিনি। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই কিট যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তারা সুপারিশ করার সঙ্গে সঙ্গে কিট ব্যবহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, সর্বোচ্চ সংক্রমণের এই সময়ে পরীক্ষার পরিধির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করতে হবে। নমুনা পরীক্ষার সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। প্রয়োজন আছে, এমন সবাই যেন পরীক্ষা করাতে পারেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার ব্যয় নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নমুনা পরীক্ষায় পুরোপুরি কাজে লাগানোর কিছু ঝুঁকি আছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
ধীরে চলো নীতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ :অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্বাস্থ্য খাতের উচ্চ পর্যায়ে অধিকাংশ ব্যক্তি করোনা-সংক্রান্ত কেনাকাটা নিয়েই বেশি আগ্রহী। করোনা প্রতিরোধে কার্যকর পরামর্শ, পলিসি নির্ধারণের চেয়ে তারা বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজকর্মে মারাত্মক সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, মন্ত্রণালয় কিছু বললেও অধিদপ্তর সেটি শুনছে না। আবার অধিদপ্তর কোনো প্রস্তাব পাঠালে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিতে বিলম্ব করছে। অথচ রোগটি প্রতিরোধে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি করতে পারছে না। এতে রোগটি ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে।
নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দিচ্ছেন জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ আগে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে আরটিপিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিলাম। স্বাস্থ্য বিভাগ সেই সুপারিশ আদৌ আমলে নিয়েছে কিনা তা জানতে পারিনি। করোনাভাইরাস দ্রুত গতিতে ছড়ালেও স্বাস্থ্য বিভাগ চলছে ধীরগতিতে। ভাইরাসের পেছনে ছুটে তো তাকে প্রতিরোধ করা যাবে না। প্রতিরোধ করতে হলে ভাইরাসের আগে ছুটতে হবে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। এ কারণে বিপদ ক্রমেই বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তার সিংহভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ সে বিষয়ে কোনো প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও মনে হয় না। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও লক্ষ্যণীয়। টেকনিক্যাল কমিটির কার্যক্রমটি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন আমরা জোর করে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। গ্রহণ করা বা না করা তাদের বিষয়।
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সংক্রমণ ছিল। এরপর ধাপে ধাপে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম বিভাগে সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ শুরু থেকে নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়িয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশন ও তার সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করা গেলে পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্নিষ্টদের এই ব্যর্থতা ও ধীরে চলো নীতির কারণে আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
নমুনা পরীক্ষা বাড়াতেই হবে :পরীক্ষার পরিধি বাড়াতেই হবে উল্লেখ করে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, সার্ক দেশগুলোর মধ্যে নমুনা পরীক্ষার হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর নমুনা পরীক্ষার কাজটি করছিল। ওই সময় বিএমএর পক্ষ থেকে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা আমলে নেয়নি।
ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের ভূমিকা ছিল একগুঁয়েমির। তাদের নেতিবাচক মানসিকতার কারণে শুরুতে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো যায়নি। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও না জেনে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সর্বত্র রোগটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত করেছেন। আইইডিসিআরসহ সংশ্নিষ্টরা আক্রান্তদের কন্টাক্ট ট্রেসিং যথাযথভাবে করতে পারেনি। এতে করে রোগটি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় একদিনে কতসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়াতেই হবে। সেটি প্রতিদিন ২০ হাজারে হবে না। আরও বেশি হতে হবে। যাদের প্রয়োজন আছে, এমন সব মানুষই যেন নমুনা পরীক্ষা করাতে পারেন। আবার সেটির ব্যয় হতে হবে সামর্থ্যের মধ্যে। সাড়ে তিন হাজার টাকায় নমুনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য সবার নেই। এটি মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। জেলা-উপাজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরীক্ষার পরিধি বাড়াতে হবে। কারণ করোনার এই দুর্যোগ থেকে শিগগিরই মুক্তি পাওয়া যাবে না। আরও তিন বছর বা তার বেশি সময় এই ভাইরাসটিকে সঙ্গী করেই হয়তো চলতে হবে। সেই বিবেচনা থেকে নমুনা পরীক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দুরূহ হবে।
যুক্ত হতে চায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান :করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের নমুনা পরীক্ষায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি বড় বড় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোও যুক্ত হতে চায়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মবিন খান সমকালকে বলেন, দেশে বেসরকারি ৬৯টি মেডিকেল কলেজের প্রতিটিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি রয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ শুরু থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্প্রসারণের বিষয়ে নেতিবাচক ছিল। আইইডিসিআরের বাইরে অন্যসব সরকারি প্রতিষ্ঠানেও তারা পরীক্ষার সুযোগ দিতে রাজি ছিল না। এ কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে আবারও সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মবিন খান।
নমুনা পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অথচ স্বাস্থ্য বিভাগ শুরুতে বিষয়টি আমলে নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে পরীক্ষার সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা ছাড়া এই মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
ল্যাডএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীম সমকালকে বলেন, যে সংখ্যক মানুষ নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, তার তুলনায় খুবই কমসংখ্যক মানুষকে বর্তমানে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়াগনস্টিকের অনেক উন্নতমানের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সরকার তাদের কাজে লাগাচ্ছে না। সরকারের একার পক্ষে এই মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যান্য বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানের মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি আছে; সরকারের উচিত তাদের সবাইকে অনুমতি দেওয়া। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করলে প্রতিদিন অন্তত ৮০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষকে নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দেশে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান পপুলার ডায়াগনস্টিকের জেনারেল ম্যানেজার মার্কেটিং আফজাল হোসেন সমকালকে জানান, করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলে প্রাথমিকভাবে ধানমন্ডির প্রধান শাখায় পরীক্ষার কাজ শুরু করা হবে। এর পর ধাপে ধাপে অন্যান্য সেন্টারেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে- বিষয়টি এমন নয়। এই ভাইরাসটি আরও তিন বছর কিংবা তারও বেশি সময় থাকতে পারে। সে জন্য আমরা একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেক জেলায় নমুনা পরীক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হবে। অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট নিয়েও আলোচনা চলছে। ওই র্যাপিড কিট ব্যবহার করা হবে কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কিট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নমুনা পরীক্ষায় পুরোপুরি কাজে লাগানোর কিছু ঝুঁকি আছে। নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহূত আরটিপিসিআর কিট সহজলভ্য নয়। এটি আমদানি করতে হয়। বেসরকারি খাত যুক্ত হলে ওই কিট যখন তারা আমদানি করতে যাবে, তখন সরকারের পক্ষে কিট পাওয়া কঠিন হতে পারে। আবার সেই সুযোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে। এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। যে কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়াগত দিকগুলো নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।
গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন্ট কিট ব্যবহার হবে কিনা- এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট ব্যবহার করা হবে না- এ কথা তো আমরা কখনোই বলিনি। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই কিট যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তারা সুপারিশ করার সঙ্গে সঙ্গে কিট ব্যবহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।