ঢাকা যেন ‘মধুর হাঁড়ি’ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ
.
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৪ | ২৩:৫০
দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রশাসনের অনেক পর্যায়ে চলছে বড় ধরনের রদবদল। এমন পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেও (ডিএনসি) সংস্কারের নামে চলছে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ। নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে তারা ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চান। যদিও ঢাকায় ওই সব পদে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি হতে চাওয়া ব্যক্তিরা বিগত সরকারের সময়ও নানা রকম সুবিধা নিয়েছেন; ভালো জায়গায় চাকরি করেছেন। এখন ভোল পাল্টে আবার ‘মধু’ খেতে চান তারা।
এমন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করছেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ডিএনসির মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রদবদলের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে প্রচুর তদবির-অভিযোগ আসছে। তারা সবাই নিজেদের বঞ্চিত বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তাকে বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী উল্লেখ করে অভিযোগ আসছে।
মহাপরিচালকের ভাষ্য, ‘আমরা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বদলি করছি না। এ পর্যন্ত শুধু চারজনকে বদলি করা হয়েছে। আর দলীয় পরিচয় নয়, দক্ষতা-যোগ্যতার ভিত্তিতেই বদলি ও পদায়ন করা হবে। এতদিন ধরে তা-ই হয়ে আসছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএনসির বেশ কিছু কর্মকর্তা ঢাকায় বদলির জন্য তদবির শুরু করেন। এর বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ে বদলি হতে চান। কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রধান কার্যালয়ে ক্ষমতা চর্চার সুযোগ বেশি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্রে বেতনবহির্ভূত আয়েরও সুযোগ রয়েছে। আবার মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের অধীনে রয়েছে অনেক বার। সেগুলো থেকে প্রতি মাসে প্রচুর টাকা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঢাকায় অভিযান চালানো হয় বেশি, তাতে উপরি আয়ও আছে। তাই অনেকেই এখানে আসতে চান। ঢাকার বাইরেও কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা কর্মকর্তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে তদবির শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী দাবি করে অনেক কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠেছে। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদে সম্পৃক্ত– এমন অভিযোগে পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা) মজিবর রহমান পাটোয়ারীকে পদাবনতি দিয়ে সিলেটে অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই কারণে মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হামিমুর রশীদকে বদলি করা হয়েছে পটুয়াখালীতে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবে আসতে চান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা জোর তদবির করছেন। বর্তমানে এই পদে থাকা উপপরিচালক আবুল হোসেন এক বছরেরও কম সময় আগে বদলি হয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে এতদিন সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে তিনি বলছেন, দীর্ঘ চাকরিজীবনের পুরোটা সময় তিনি ডাম্পিং পোস্টিংয়ে (কম গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন) ছিলেন। প্রথমবার তিনি ঢাকায় কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে এটা তদবির নয়, কর্মদক্ষতা গুণে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সহকারী পরিচালক পদেও আসতে আগ্রহী ঢাকা এবং বাইরের কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। এর মধ্যে উত্তরের সহকারী পরিচালক মাত্র তিন মাস আগে বদলি হয়ে এসেছেন। সেই সঙ্গে ঢাকার গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক হিসেবে আসতে তদবির করছেন রাজশাহী ও চট্টগ্রামে থাকা দু’জন কর্মকর্তা। আবার প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে আসতে আগ্রহী রাজশাহীর এক কর্মকর্তা।
ডিএনসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কখনোই রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ভিত্তিতে খুব বেশি বদলি-পদায়ন হয়নি। তার পরও কিছু কর্মকর্তা নিজেদের বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বঞ্চিত বলে দাবি করে ভালো পদায়ন চাইছেন। অথচ তাদের প্রায় সবাই বিগত সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে কর্মকর্তাদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিদ্বেষপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
- বিষয় :
- পদবাণিজ্য
