বন্যার পদধ্বনি
ফাইল ছবি
জয়নাল আবেদীন
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ জুন ২০২০ | ১৫:০৫
করোনাভাইরাস নিয়ে সংকটের মধ্যেই আঘাত হানে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এর ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশের পশ্চিমাঞ্চল। এর মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের জন্য জেগেছে নতুন দুর্ভোগের হুমকি। আসছে আগাম বন্যা।
অব্যাহত বৃষ্টিতে দেশের প্রধান নদনদীর পানি বাড়ছে। তার সঙ্গে উজানের পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে বিপদ। চলতি সপ্তাহে যোগ হচ্ছে টানা ভারি বর্ষণ। এতে তলিয়ে যেতে পারে উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদ। রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধার পাশাপাশি হাওর ও পার্বত্য অঞ্চলে 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে শোনা যাচ্ছে বন্যার পদধ্বনি।
সংশ্নিষ্টরা জানান, তিস্তায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যোগ হয়েছে উজানের ঢল। ভারতের আসাম, মেঘালয়, সিকিম ও জলপাইগুড়ির ভারি বর্ষণের প্রভাবে এরই মধ্যে দেশের নদনদীর পানি বেড়েছে। ক্রমে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
গত বছর উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা এসেছিল জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যায়ে বড় বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল অনেক জেলা। সে তুলনায় এবার আগেভাগেই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদনদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন দিন তা অব্যাহত থাকবে। নদীগুলোর ১০১টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের মধ্যে ৬৮টিতে বেড়েছে পানি। একটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে পানি বইছে।
আরিফুজ্জামান বলেন, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি রংপুর ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর কারণে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ আশপাশের এলাকা, অর্থাৎ মধ্যাঞ্চলসহ যমুনা নদীর এলাকায় এ মাসের শেষের দিকে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
কিছু এলাকায় এরই মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেছে জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এই কর্মকর্তা বলেন, 'দেশের অনেক এলাকায় এখনও বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই নদীর পানি বাড়ছে। চলতি মাসের শেষটায় মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।'
পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং হাওরাঞ্চলে আজ-কালের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভারি বর্ষণের প্রবণতা কিছুটা কমলেও চলতি সপ্তাহের শেষদিকে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়বে। ওই জনপদ তলিয়ে যাওয়ার মতো ভারি বর্ষণ হতে পারে। ভারতের উত্তরাঞ্চলে সিকিম ও জলপাইগুড়িতে ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে আসাম ও মেঘালয়। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ২৬ জুন দেশের উত্তরাঞ্চলে ভারি বর্ষণ শুরু হতে পারে। অতিবৃষ্টিতে দেখা দিতে পারে চরম দুর্ভোগ।
এর আগে হালকা বা মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে কোথাও কোথাও এর মধ্যেই ভারি বর্ষণ চলতে পারে।
বিভিন্ন অঞ্চলে নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কথা জানিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদনদীগুলোর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের ফলে মেঘনা অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী এবং দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অববাহিকার সাঙ্গু, মাতামুহুরী এবং হালদা নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলার পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে এমন চার জেলার মধ্যে রংপুরে সংক্রমণের গতি অস্বাভাবিক। সংশ্নিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবার পর্যন্ত রংপুরে মোট শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭৪১ জন। এ ছাড়া কুড়িগ্রামে ১১৯, লালমনিরহাটে ৭১ ও গাইবান্ধায় ২০৬ জন শনাক্ত হয়েছেন ওই দিন পর্যন্ত।
এসব জেলার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে এমনিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে জটিল অবস্থা হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্যা বাড়তি দুর্ভোগ হয়েই দেখা দিচ্ছে।
- বিষয় :
- বন্যার পদধ্বনি
- বন্যা
- উত্তরের জনপদ
- জনপদ
- করোনাভাইরাস