করোনাকাল
মানবসেবায় অনন্য নজির গাউছিয়া কমিটির
×
করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গাউছিয়া কমিটির সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন - সমকাল
নাসির উদ্দিন হায়দার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ১২:০০
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উত্তর পোমরা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিকাশ বড়ূয়া (৬৭) গত ১৪ জুন জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যান। করোনা উপসর্গ থাকায় পরিবার ও পাড়ার লোকজন এই মুক্তিযোদ্ধার লাশ সৎকারে এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে লাশ সৎকারের জন্য মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক সংগঠন গাউছিয়া কমিটির সাহায্য চাওয়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা। বৌদ্ধ ধর্মগুরুদের সহায়তায় বৌদ্ধধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সুব্রত বড়ূয়ার শেষকৃত্যে অংশ নেন তারা। এ সময় পুলিশের একটি দল এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
১৭ জুন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাগিচাহাট এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলা (৪০) মারা যান। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে লাশের কাছে যায়নি কেউ। প্রায় তিন দিন এই লাশ স্থানীয় মক্কা পেট্রোল পাম্পের পাশে পড়েছিল। খবর পেয়ে চন্দনাইশ উপজেলা গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা বেওয়ারিশ ওই মহিলার অর্ধগলিত লাশ দাফন করেন।
এভাবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গে মৃত ৩২০ জনের লাশ দাফন ও সৎকার করে মানবতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রামের ইসলাম ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাউছিয়া কমিটি। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২২০টি ও ঢাকায় ১০০টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে গাউছিয়া কমিটি। এর মধ্যে করোনায় পজিটিভ ছিলেন অন্তত ১২০ জন। গাউছিয়া কমিটি হলো চট্টগ্রাম আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অধীন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। চট্টগ্রামের বাইরে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও, চানখাঁরপুল ও মোহাম্মদপুরে রয়েছে গাউছিয়া কমিটির ৩৬ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল, তারাও ইতোমধ্যে শতাধিক লাশ দাফন করেছেন। বর্তমানে সারাদেশে গাউছিয়া কমিটির মানবিক এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নীলফামারীতেও তিনটি লাশের দাফন-কাফন করেছে গাউছিয়া কমিটি।
শুধু লাশের দাফন-কাফনেই সীমাবদ্ধ নেই গাউছিয়া কমিটির কর্মকাণ্ড। শ্বাসকষ্টে থাকা করোনা রোগীদের জন্য দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ, রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণও করছে গাউছিয়া কমিটি। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় এক লাখ অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে এই সংগঠন। করোনা রোগীদের জন্য একটি আইসোলেশন সেন্টার গড়ার কাজেও হাত দিয়েছে গাউছিয়া কমিটি।
রাত-দিন, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে গাউছিয়া কমিটির ৭০০ স্বেচ্ছাসেবক ছুটছেন নগর-গ্রামে, দাফন ও সৎকার করছেন করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গে মৃতদের লাশ। করোনায় মৃত বাবার লাশ যখন হাসপাতাল বা রাস্তায় রেখে চলে যাচ্ছে সন্তান, লাশ বাড়ি নেওয়ার পর যখন কাছেও ঘেঁষে না পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশী, তখনই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা। মৃতদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন ও সৎকার করছেন।
১৭ জুন রাত ২টায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদারপাড়া এলাকায় প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ দাফন করেন গাউছিয়া কমিটি চান্দগাঁও থানা শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা। গত শুক্রবারও রাউজানের বাগোয়ানে করোনায় মৃত প্রকৌশলী রূপম কান্তি বড়ূয়ার শেষকৃত্যে অংশ নেয় গাউছিয়া কমিটি।
গাউছিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার হলেন এই মানবিক উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা। বখতিয়ার বলেন, 'এপ্রিলের শুরুতে করোনায় মৃতদের লাশ দাফনে পরিবার ও প্রতিবেশীদের অনীহার বিষয়টি সামনে আসার পর আমি আমাদের সংগঠনের কর্মীদের দিয়ে লাশ দাফনের পরিকল্পনা করি। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দাফনে সহযোগিতার কথা জানাই। সিভিল সার্জনের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা দ্রুত সময়ে চট্টগ্রাম জেলায় ৭০০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করি। অল্প সময়ে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাশ দাফন ও সৎকারে দক্ষ করে তোলা হয়। ১৩ এপ্রিল করোনায় মৃত পটিয়ায় একজন শিশুর লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আমাদের মানবসেবার এই মহাযজ্ঞ।'
বখতিয়ার বলেন, 'শুরুর দিকে কর্মীদের সাহস দিতে আমি আর আমাদের কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ নিজেই জানাজার নামাজে ইমামতি করেছি, দাফন-কাফনে অংশ নিয়েছি। অনেক জায়গায় ইমামতি করার লোকও পাওয়া যায়নি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই সবকিছু করেছেন।'
চন্দনাইশে লাশ দাফন কাজে নেতৃত্ব দেওয়া ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলানা মোহাম্মদ সোলায়মান ফারুকী বলেন, 'ইসলামের শিক্ষা হলো মানুষের খেদমত করা। আজ করোনার ভয়ে দাফন-কাফনেও ভয় পাচ্ছে মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এসব দেখে তো আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। এই দুঃসময়ে আমি যদি একজন মৃত মানুষের দাফনে সাহায্য না করি, চোখ বন্ধ করে রাখি কাল আমার দাফন কে করবে?'
রাউজানে এ পর্যন্ত ১০টি লাশের দাফন-কাফনে অংশ নিয়েছেন গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবক ব্যবসায়ী আহসান হাবিব চৌধুরী। তিনি বলেন, 'ডাক্তাররা যদি পিপিই পরে রোগীদের সেবা দিতে পারেন, প্রশাসনের লোকজন যদি পিপিই পরে করোনায় মৃতদের দাফন করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পিপিই পরে করোনায় মৃতদের দাফন করতে পারব না? এই চিন্তা থেকে আমি দাফন-কাফনে সম্পৃক্ত হই।' এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'ঘরে সন্তান আছে, আছে স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা। তাদের সুরক্ষা নিয়ে মাঝে মাঝে শঙ্কিত হই। সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।'
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি এ বিষয়ে বলেন, 'গাউছিয়া কমিটির কাজ খুবই প্রশংসনীয়। গাউছিয়া কমিটির দেখাদেখি আরও কয়েকটি সংগঠনও লাশ দাফনে এগিয়ে এসেছে। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।'
১৭ জুন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাগিচাহাট এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলা (৪০) মারা যান। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে লাশের কাছে যায়নি কেউ। প্রায় তিন দিন এই লাশ স্থানীয় মক্কা পেট্রোল পাম্পের পাশে পড়েছিল। খবর পেয়ে চন্দনাইশ উপজেলা গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা বেওয়ারিশ ওই মহিলার অর্ধগলিত লাশ দাফন করেন।
এভাবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গে মৃত ৩২০ জনের লাশ দাফন ও সৎকার করে মানবতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রামের ইসলাম ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাউছিয়া কমিটি। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২২০টি ও ঢাকায় ১০০টি লাশ দাফন ও সৎকার করেছে গাউছিয়া কমিটি। এর মধ্যে করোনায় পজিটিভ ছিলেন অন্তত ১২০ জন। গাউছিয়া কমিটি হলো চট্টগ্রাম আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অধীন একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। চট্টগ্রামের বাইরে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও, চানখাঁরপুল ও মোহাম্মদপুরে রয়েছে গাউছিয়া কমিটির ৩৬ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল, তারাও ইতোমধ্যে শতাধিক লাশ দাফন করেছেন। বর্তমানে সারাদেশে গাউছিয়া কমিটির মানবিক এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নীলফামারীতেও তিনটি লাশের দাফন-কাফন করেছে গাউছিয়া কমিটি।
শুধু লাশের দাফন-কাফনেই সীমাবদ্ধ নেই গাউছিয়া কমিটির কর্মকাণ্ড। শ্বাসকষ্টে থাকা করোনা রোগীদের জন্য দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ, রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণও করছে গাউছিয়া কমিটি। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় এক লাখ অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে এই সংগঠন। করোনা রোগীদের জন্য একটি আইসোলেশন সেন্টার গড়ার কাজেও হাত দিয়েছে গাউছিয়া কমিটি।
রাত-দিন, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে গাউছিয়া কমিটির ৭০০ স্বেচ্ছাসেবক ছুটছেন নগর-গ্রামে, দাফন ও সৎকার করছেন করোনায় আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গে মৃতদের লাশ। করোনায় মৃত বাবার লাশ যখন হাসপাতাল বা রাস্তায় রেখে চলে যাচ্ছে সন্তান, লাশ বাড়ি নেওয়ার পর যখন কাছেও ঘেঁষে না পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশী, তখনই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা। মৃতদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন ও সৎকার করছেন।
১৭ জুন রাত ২টায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদারপাড়া এলাকায় প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ দাফন করেন গাউছিয়া কমিটি চান্দগাঁও থানা শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা। গত শুক্রবারও রাউজানের বাগোয়ানে করোনায় মৃত প্রকৌশলী রূপম কান্তি বড়ূয়ার শেষকৃত্যে অংশ নেয় গাউছিয়া কমিটি।
গাউছিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার হলেন এই মানবিক উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা। বখতিয়ার বলেন, 'এপ্রিলের শুরুতে করোনায় মৃতদের লাশ দাফনে পরিবার ও প্রতিবেশীদের অনীহার বিষয়টি সামনে আসার পর আমি আমাদের সংগঠনের কর্মীদের দিয়ে লাশ দাফনের পরিকল্পনা করি। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ দাফনে সহযোগিতার কথা জানাই। সিভিল সার্জনের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা দ্রুত সময়ে চট্টগ্রাম জেলায় ৭০০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করি। অল্প সময়ে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লাশ দাফন ও সৎকারে দক্ষ করে তোলা হয়। ১৩ এপ্রিল করোনায় মৃত পটিয়ায় একজন শিশুর লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আমাদের মানবসেবার এই মহাযজ্ঞ।'
বখতিয়ার বলেন, 'শুরুর দিকে কর্মীদের সাহস দিতে আমি আর আমাদের কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ নিজেই জানাজার নামাজে ইমামতি করেছি, দাফন-কাফনে অংশ নিয়েছি। অনেক জায়গায় ইমামতি করার লোকও পাওয়া যায়নি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই সবকিছু করেছেন।'
চন্দনাইশে লাশ দাফন কাজে নেতৃত্ব দেওয়া ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলানা মোহাম্মদ সোলায়মান ফারুকী বলেন, 'ইসলামের শিক্ষা হলো মানুষের খেদমত করা। আজ করোনার ভয়ে দাফন-কাফনেও ভয় পাচ্ছে মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এসব দেখে তো আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। এই দুঃসময়ে আমি যদি একজন মৃত মানুষের দাফনে সাহায্য না করি, চোখ বন্ধ করে রাখি কাল আমার দাফন কে করবে?'
রাউজানে এ পর্যন্ত ১০টি লাশের দাফন-কাফনে অংশ নিয়েছেন গাউছিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবক ব্যবসায়ী আহসান হাবিব চৌধুরী। তিনি বলেন, 'ডাক্তাররা যদি পিপিই পরে রোগীদের সেবা দিতে পারেন, প্রশাসনের লোকজন যদি পিপিই পরে করোনায় মৃতদের দাফন করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পিপিই পরে করোনায় মৃতদের দাফন করতে পারব না? এই চিন্তা থেকে আমি দাফন-কাফনে সম্পৃক্ত হই।' এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'ঘরে সন্তান আছে, আছে স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা। তাদের সুরক্ষা নিয়ে মাঝে মাঝে শঙ্কিত হই। সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।'
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি এ বিষয়ে বলেন, 'গাউছিয়া কমিটির কাজ খুবই প্রশংসনীয়। গাউছিয়া কমিটির দেখাদেখি আরও কয়েকটি সংগঠনও লাশ দাফনে এগিয়ে এসেছে। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।'
- বিষয় :
- করোনা