তবুও নিয়োগ পেলেন সেই মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা
×
রাজবংশী রায়
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০ | ১২:০০
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরও বিতর্কিত সেই মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনিবার রাতেই ১৪৫ জনের নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। গতকাল রোববার সকালে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তাদের নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
তড়িঘড়ি এই নিয়োগের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। নিয়োগের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবাদ জানাতে যান শুরু থেকে কাজ করার পরও নিয়োগবঞ্চিত টেকনোলজিস্টরা। তবে আগে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তাদের অধিদপ্তরে প্রবেশ ঠেকানো হয়।
নিয়োগবঞ্চিত টেকনোলজিস্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ দিয়েছে। এজন্য শুরু থেকে কাজ করার পরও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। টেকনোলজিস্টরা বলেন, যে কোনো সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ কারণে তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে নিয়োগ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া এই অস্বচ্ছ নিয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এই নিয়োগ বাতিলের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। কাজ না করেই চাকরি :অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। সংশ্নিষ্টরা জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর প্রথম দিকে সরকারি পর্যায়ে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মাধ্যম নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ চালিয়ে নেওয়া হলেও এপ্রিল ও মে মাসে সংক্রমণের বিস্তার ঘটায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছায় কিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজে যুক্ত হন। তবে এপ্রিল ও মে মাসে কাজে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহে এমনকি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
শুরু থেকে আইইডিসিআরে কাজ করা ৫৭ জনের একজনকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনটিটি কর্মসূচি থেকে ৬০ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়। এই এনটিপি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম। তার এনটিপি কর্মসূচির অধীনে ১৭ মে ৩৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা ২৩ মে থেকে যোগদান করেন। একই কর্মসূচির অধীনে ২৭ মে আরও ২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের অনেকে ১ জুন, আবার কেউ ২ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
দাতা সংস্থা ইউএনএফপিএর অর্থায়নে তাদের প্রত্যেকের জন্য ২২ হাজার টাকা বেতন ধরা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসব টেকনোলজিস্টকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গত ২ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণের অনুমতি নেওয়া হয়।
চাকরির চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ইশরাত জাহান গত ২৭ মে এনটিপি কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কাজে যোগদান করেননি। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেননি। এরপরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এনটিপি কর্মসূচি থেকে নেওয়া ২৩ জনের তালিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এর পরিচালক (পরিকল্পনা) ডা. ইকবাল কবীর সমকালকে বলেন, আইইডিসিআর যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন তার প্রকল্পে ১৪ জনকে নেওয়া হয়। ওই ১৪ জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরও ৯ জনের নাম যুক্ত করে পরিকল্পনা শাখার নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নামের তালিকায় আইইডিসিআর থেকে ৯ জনের নাম পাওয়া যায়। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই ৯ জনের নাম কীভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানেন না তিনি। সম্প্রতি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, তাড়াহুড়োর কারণে ১৮৩ জনের তালিকায় ১৪ জনের নাম দু'বার করে এসেছে। যেমন ক্রমিক নম্বর ৪৯ ও ১৪২-তে রয়েছেন একই ব্যক্তি, মো. দাইমুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ১০ জনের নাম নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় আছে।
যত অনিয়ম :ফাইলপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসেন, এনটিপি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম এবং পরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীরসহ কয়েকজন। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) শেখ মুজিবর রহমান। তিনি অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও শৃঙ্খলা অনুবিভাগেরও দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) শাহিনা খাতুন, উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেনও (প্রশাসন-১) এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি ২ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তালিকা পাঠান। তাদের মধ্যে গত ১৪ ও ১৫ মে ১৫৭ জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হাজির হয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন। সমকালে গত ২০ জুন এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তা সত্ত্বেও গতকাল মোট ১৪৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ :কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন কার বা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১৮৩ জনের নামের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন, সে সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেননি। এমনকি ওই নির্দেশনায় কোনো স্মারক নম্বর নেই।
চিঠিতে মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের চিঠিতে মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে চিঠিতে ১৮৩ জনকে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের কোনো প্রস্তাব বা সুপারিশ নেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মুজিবর রহমান, যুগ্ম সচিব শাহিনা খাতুন ও উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন গত ৩ জুন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে তাদের সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠান।
চিঠিতে বিএসএমএমইউর ৫ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন, আইইদেশী'র ৪ জন এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ৩৪ জনসহ মোট ৪৮ জন রয়েছেন। স্বায়ত্তশাসিত ও এনজিওর এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। কারণ তারা সবাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের আইনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এর পরও এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ কভিড আক্রান্তদের সবার জন্য স্বেচ্ছাসেবক, অস্থায়ী কিংবা মাস্টার রোলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করার কোনো ঘোষণা ও আহ্বান জানায়নি। তা সত্ত্বেও এক হাজার ২০০ পদে নিয়োগের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জেনে তারপর তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
তড়িঘড়ি এই নিয়োগের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে। নিয়োগের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবাদ জানাতে যান শুরু থেকে কাজ করার পরও নিয়োগবঞ্চিত টেকনোলজিস্টরা। তবে আগে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তাদের অধিদপ্তরে প্রবেশ ঠেকানো হয়।
নিয়োগবঞ্চিত টেকনোলজিস্টদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ দিয়েছে। এজন্য শুরু থেকে কাজ করার পরও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। টেকনোলজিস্টরা বলেন, যে কোনো সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ কারণে তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে নিয়োগ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া এই অস্বচ্ছ নিয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এই নিয়োগ বাতিলের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। কাজ না করেই চাকরি :অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। সংশ্নিষ্টরা জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর প্রথম দিকে সরকারি পর্যায়ে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মাধ্যম নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ চালিয়ে নেওয়া হলেও এপ্রিল ও মে মাসে সংক্রমণের বিস্তার ঘটায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছায় কিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজে যুক্ত হন। তবে এপ্রিল ও মে মাসে কাজে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহে এমনকি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
শুরু থেকে আইইডিসিআরে কাজ করা ৫৭ জনের একজনকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনটিটি কর্মসূচি থেকে ৬০ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয়। এই এনটিপি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম। তার এনটিপি কর্মসূচির অধীনে ১৭ মে ৩৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা ২৩ মে থেকে যোগদান করেন। একই কর্মসূচির অধীনে ২৭ মে আরও ২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের অনেকে ১ জুন, আবার কেউ ২ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
দাতা সংস্থা ইউএনএফপিএর অর্থায়নে তাদের প্রত্যেকের জন্য ২২ হাজার টাকা বেতন ধরা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসব টেকনোলজিস্টকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর গত ২ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণের অনুমতি নেওয়া হয়।
চাকরির চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ইশরাত জাহান গত ২৭ মে এনটিপি কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কাজে যোগদান করেননি। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেননি। এরপরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এনটিপি কর্মসূচি থেকে নেওয়া ২৩ জনের তালিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এর পরিচালক (পরিকল্পনা) ডা. ইকবাল কবীর সমকালকে বলেন, আইইডিসিআর যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন তার প্রকল্পে ১৪ জনকে নেওয়া হয়। ওই ১৪ জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরও ৯ জনের নাম যুক্ত করে পরিকল্পনা শাখার নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নামের তালিকায় আইইডিসিআর থেকে ৯ জনের নাম পাওয়া যায়। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই ৯ জনের নাম কীভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানেন না তিনি। সম্প্রতি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, তাড়াহুড়োর কারণে ১৮৩ জনের তালিকায় ১৪ জনের নাম দু'বার করে এসেছে। যেমন ক্রমিক নম্বর ৪৯ ও ১৪২-তে রয়েছেন একই ব্যক্তি, মো. দাইমুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ১০ জনের নাম নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় আছে।
যত অনিয়ম :ফাইলপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসেন, এনটিপি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম এবং পরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীরসহ কয়েকজন। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট অনুবিভাগ) শেখ মুজিবর রহমান। তিনি অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও শৃঙ্খলা অনুবিভাগেরও দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) শাহিনা খাতুন, উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেনও (প্রশাসন-১) এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি ২ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তালিকা পাঠান। তাদের মধ্যে গত ১৪ ও ১৫ মে ১৫৭ জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হাজির হয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন। সমকালে গত ২০ জুন এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তা সত্ত্বেও গতকাল মোট ১৪৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ :কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেন কার বা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ১৮৩ জনের নামের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন, সে সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করেননি। এমনকি ওই নির্দেশনায় কোনো স্মারক নম্বর নেই।
চিঠিতে মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের চিঠিতে মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে চিঠিতে ১৮৩ জনকে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের কোনো প্রস্তাব বা সুপারিশ নেই।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মুজিবর রহমান, যুগ্ম সচিব শাহিনা খাতুন ও উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন গত ৩ জুন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে তাদের সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠান।
চিঠিতে বিএসএমএমইউর ৫ জন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন, আইইদেশী'র ৪ জন এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ৩৪ জনসহ মোট ৪৮ জন রয়েছেন। স্বায়ত্তশাসিত ও এনজিওর এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। কারণ তারা সবাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের আইনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। এর পরও এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ কভিড আক্রান্তদের সবার জন্য স্বেচ্ছাসেবক, অস্থায়ী কিংবা মাস্টার রোলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করার কোনো ঘোষণা ও আহ্বান জানায়নি। তা সত্ত্বেও এক হাজার ২০০ পদে নিয়োগের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জেনে তারপর তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
- বিষয় :
- মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
