জুলাই অভ্যুত্থান
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার আইসিসিতে চায় অ্যামনেস্টি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৫ | ০৫:৪৪
বাংলাদেশে গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোম সনদের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার বিচার চায় মানবাধিকার সংগঠনটি। গতকাল বুধবার বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানায়।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে একটি ফাঁস হওয়া অডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়া ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমনপীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।
সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওই বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হতে পারেন। যাদের অধিকাংশই নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ধাতব ছররা ভর্তি সামরিক রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণত অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে। অভ্যুত্থান চলাকালে হাজারো মানুষ গুরুতর জখম হন, যার প্রভাব আজীবন রয়ে যেতে পারে।
অ্যামনেস্টি জানায়, বিক্ষোভের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সরাসরি সহিংসতাকারী কিংবা নির্দেশদাতা হোন না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং মৃত্যুদণ্ডবিহীন বিচার প্রক্রিয়া চালাতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যেন রোম সংবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অপরাধের ডকুমেন্ট আইসিসিতে পাঠানোর জোরালো পদক্ষেপ নেয়।
বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি বলেছে, বিবিসির বিশ্লেষিত নতুন তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বিক্ষোভের সময় একটি ব্যাপক দমনপীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অডিও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অ্যামনেস্টি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় না নিয়েই বিচার করতে হবে।
গতকাল বিবিসি জানায়, ফাঁস হওয়া একটি অডিও টেপ যাচাই করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চলতি বছরের মার্চে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘যেখানেই পাবে, গুলি করবে।’
- বিষয় :
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
