ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শুধু কমিটি গঠন, হয় না তদন্ত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে

শুধু কমিটি গঠন, হয় না তদন্ত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
×

.

 কামরুল ইসলাম সজল, শেকৃবি

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫ | ০১:৪৬

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) গত এক বছরে নিয়োগ, যৌন হয়রানি, নির্মাণকাজ, পদোন্নতি এবং ছাত্রত্ব নিয়ে সাতটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর কোনোটির তদন্ত শেষ হয়নি। প্রতিবেদনও জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব, উদাসীনতা, একাডেমিক ব্যস্ততা ও সদিচ্ছার অভাবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয় না।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম যাচাইয়ে গত ৫ জানুয়ারি ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দুটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের রক্ষা করতে কালক্ষেপণ করছে কমিটি। এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী বলেন, কাগজপত্র কিছু পাওয়া গেছে, কিছু এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা সব কিছু সংগ্রহ করছি।
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসেন এবং অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ ছাত্রদল নেতা। পরীক্ষায় একাধিকবার ফেল করায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে গেছেন। গত আগস্টের পর তারা পুনরায় ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের শিক্ষাজীবন পুনর্বিবেচনা করার জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি কমিটি গঠন করা হয়। একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছাত্রত্ব বহালের সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য বেলাল হোসেন বলেন, কিছু জটিলতা রয়েছে। আমরা কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। 
আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক সহযোগী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন ২০২৩ সালের এপ্রিলে। তদন্ত কাজ থেমে থাকার সংবাদ প্রকাশিত হলে পুরোনো কমিটি বাতিল করা হয়। নতুন কমিটি গঠন করা হয় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। আহ্বায়ক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, তদন্ত চলছে।
বিভিন্ন ভবন, গ্রিনহাউস, লিফট ও আবাসিক হলের নির্মাণকাজে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ছরোয়ার হোসেন বলেন, এখনও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি।

সিনিয়র ইমাম মো. আবুল কালামের পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১০ মাস পার হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। আহ্বায়ক কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
প্রথম গেট-সংলগ্ন অস্থায়ী মার্কেট নিয়ে গণমাধ্যমে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়াবিষয়ক অসংগতির খবর প্রকাশিত হয়। গত ৭ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে কমিটির সভাপতি উপউপাচার্য ড. বেলাল হোসেন বলেন, এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব ছাড়া গত আগস্টের আগে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শেষ করার জন্য উদ্যোগ নেয়নি বর্তমান প্রশাসন। 
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, একাডেমিক ব্যস্ততা, অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, শিগগিরই তারা তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।

আরও পড়ুন

×