১৮ জেলায় পানিবন্দি প্রায় ৫ লাখ পরিবার: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার চেষ্টা করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি এলাকা থেকে তোলা-সংগৃহীত ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৬:৫১ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০৯:৩৫
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, বন্যা এ পর্যন্ত দেশের ১৮টি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে। পানিবন্দি ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭৬টি পরিবারের ২২ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জামালপুরে চারজন এবং লালমনিরহাট, সুনামগগঞ্জ, সিলেট ও টাঙ্গাইলে একজন করে মোট আটজন মারা গেছেন। মোট ৯২টি উপজেলা বন্যা আক্রান্ত হয়েছে, বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৫৩৫টি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে অনলাইনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন উপস্থিতি ছিলেন।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ৪ হাজার ৮৫০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৯১ লাখ টাকা। শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮২২ প্যাকেট । শিশুখাদ্য কেনা বাবদ ২১ লাখ ও গো-খাদ্য কেনা বাবদ ২১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল এই বন্যা ততটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আমরা আশা করছি। কারণ নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, যেসব নদীন পানি বাড়ছে সেগুলোর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করবে এবং যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল হবে।
গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনার প্রধান নদীগুলোর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। অপরদিকে গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।
বেশি বন্যা আক্রান্ত ১২ জেলায় এক হাজার ৫৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে ৩০ হাজার ৭০৫ জন মানুষ এবং ৫৬ হাজার ৩১টি গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে। ৫৯৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও এরমধ্যে ১৯৭টি টিম কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আনসার, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিও প্রতিনিধিরা কাজ করছে ।
আশ্রয়কেন্দ্র খোলা ১২ জেলায় রান্না করা খাবার দেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খাবার তৈরি ও বিতরণের কাজে সহায়তা করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন,সব জেলায় ধান কাট শেষ হওয়ায় বন্যায় ধানের ক্ষতি হয়নি । পাট, ডাল ও শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয় উচু জায়গায় আমনের বীজতলা করে কৃষকদের বিনামূল্যে তা সরবরাহ করবে।