ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

২১ জুলাই আচরণবিধি চূড়ান্ত করবে ইসি

২১ জুলাই আচরণবিধি চূড়ান্ত করবে ইসি
×

অমরেশ রায়

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৪:১৯

স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া আগামী ২১ জুলাই চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইদিন কমিশন সভায় বসে এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে গত ১০ জুন ইসির ওয়েবসাইটে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক পৃথক খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করে ইসি এর ওপর অংশিজনের মতামত আহ্বান করেছিল। একই সঙ্গে ইসিতে নিবন্ধিত ৫৬টি রাজনৈতিক দলের কাছে ই-মেইলে খসড়া পাঠিয়ে তাদের মতামত আহ্বান করে ইসি। ৩০ জুনের মধ্যে সবাইকে মতামত লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছিল।

সূত্রমতে, ইসির আহবানে দলীয় ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে মাত্র ১১টি মতামত পাওয়া গেছে। এরপর এসব মতামত নিয়ে পর্যালোচনা করেছে ইসি। আগামী ২১ জুলাইয়ের কমিশন সভায় এসব মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আচরণবির চূড়ান্ত করা হবে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোসহ অংশীজনেট সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না। এ ধরনের আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত স্থান বলে মনে করছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে সমকালকে বলেছেন, খসড়া আচরণবিধির বিষয়ে মাত্র ১১টি মতামত পাওয়া গেছে। এগুলো পর্যালোচনা করে কমিশন মাত্র কয়েকটি ছোটখাটো পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আগে ইসি এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ অংশীজনের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলসহ সব দলই বর্তমানে সংসদীয় কার্যক্রমে ব্যস্ত। তারা চাইলে সেখানেই এসব বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। 

প্রস্তাবিত আচরণবিধিতে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে আচরণ বিধির গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্টকে লিখিত আদেশের মাধ্যমে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।

এছাড়া আচরণ বিধিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা কমানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং সাউন্ড সিস্টেম বা মাইক ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। খসড়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। 

এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় ‘সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ’-কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। খসড়ায় প্রার্থীদের জামানতের অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়র প্রার্থীদের জামানত বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা ৫ হাজার টাকাই বহাল থাকবে। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে যে, অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং আগস্টের শেষ নাগাদ এর তপশিল ঘোষণা করা হতে পারে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্বাচনের বাজেট কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন

×