ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভূমি ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা

ভূমি ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা
×

.

 লতিফুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | ০০:১৫

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশের ভূমি ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা (এনএসপি) প্রণয়নে প্রকল্প হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রণয়নে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। 
৩০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি, ভূগর্ভস্থ অঞ্চল, আকাশ, সমুদ্রসহ দেশের সামগ্রিক আঞ্চলিক উন্নয়নের কৌশল ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায় বিবেচনা করে সব ক্ষেত্রে থাকবে নির্ধারিত কাঠামো। জনসংখ্যার সুষম বণ্টন ও বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করে আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া ভূমি সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য ভূমি ব্যবহারের শ্রেণিবিন্যাসও তৈরি করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

আঞ্চলিক পরিকল্পনার সঙ্গে জাতীয় খাতভিত্তিক নীতিমালা সমন্বয় করা হবে। দেশের সীমানা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর, নিরাপত্তা, সড়ক, রেল, জলপথ সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও থাকবে এতে।
 

যেভাবে শুরু
জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন কপ১৫তে কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এ পরিকল্পনা কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্ত একটি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়ন; ২০২৮ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্ত স্থানিক পরিকল্পনা বিষয়ক আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংবেদনশীল জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার একীভূতকরণ সম্পন্ন করতে হবে।

এ পটভূমিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। বছরের শুরু থেকেই এ নিয়ে ধারাবাহিক সভা, সেমিনার, কর্মশালা হয়। গত ৭ জুলাই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা বসে। গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির খসড়া অনুমোদন দেয়। আগামী ৩১ জুলাই নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। 
খসড়ায় যা আছে
প্রকল্পের খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার বিস্তৃতি হবে বাংলাদেশজুড়ে। ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলও এর আওতায় থাকবে। ২০২৫ থেকে ২০৫৫ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনাটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো এবং পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। 
প্রকল্পের মাধ্যমে গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে বন্যা এবং অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। ২০৫০ ও ২১০০ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রক্ষেপণ বিবেচনা করে প্রস্তুত করা হবে বন্যার ঝুঁকি মানচিত্র। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মূল্যায়নে অতীতের ঘূর্ণিঝড়ের ঢেউ, জোয়ার এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা মডেল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। 
খসড়ায় আরও বলা হয়, জাতীয় পরিকল্পনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ, নির্ভুল ও উপস্থাপনযোগ্য ব্যবহারকারী-বান্ধব ওয়েব-জিআইএসভিত্তিক ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হবে। 
কারা কী বলছেন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান সমকালকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রথম পঞ্চবার্ষিকীতে স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। পরবর্তী সময়ে কোনো সরকারই সেটি বাস্তবায়ন করেনি। এতে প্রতিবছর উন্নয়ন বাজেটে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয় তাতে এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের সংযোগ থাকে না। অপরিকল্পিত নগরায়ন আর শিল্পাঞ্চলে পরিবেশের ক্ষতি হতেই থাকে। হাওর আর বনাঞ্চল ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। সরকার জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দেশের ভূমি, সম্পদ আর পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।’ 
এ ব্যাপারে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলী সমকালকে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা আর নগরায়নের কৃষিজমি বাঁচিয়ে রাখতে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই এটি প্রণয়নে পদক্ষেপ নেয়। কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যেই আমরা স্থানিক পরিকল্পনা-বিষয়ক একটি আলাদা আইন প্রণয়ন ও পরিকল্পনা করতে পারব। আগামী ৩১ জুলাই স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন

×