মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
ছেলের অবস্থা জানতে চাইতেই বাবার চোখ ছলছল
জারিফ ফারহান
বকুল আহমেদ
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ১৭:৩৮ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ১৮:২৮
বুধবার দুপুর একটা ৩২ মিনিট। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে ছুটে আসলেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। এর আগে থেকেই আইসিইউ-এর সামনে চারজন স্বজন অপেক্ষা করছিলেন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় তারা জানতে চাইলেন, ‘জারিফ ফারহান কী অবস্থায় রয়েছে’। ওই ব্যক্তির চোখ ছলছল করছিল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা বলেছেন, আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কিছু করার নেই। যেকোনো ঘটনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষত শুকানোর চিকিৎসা চলছে। মোটেও নড়াচড়া করছে না। এখনও লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। লাইফ সাপোর্ট সবসময় যে রোগীকে সুস্থ করে তুলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে আল্লাহ চাইলে সবকিছু পাল্টে যেতে পারে।’
কথাগুলো বলতেই গলা ধরে আসে ওই ব্যক্তির। চোখ মুছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আনার কথা বলে তিনি ছোটেন সাততলায়। স্বজনের কাছে জানা গেল, মধ্য বয়সী ওই ব্যক্তির নাম হাবিবুর রহমান। তাঁর একমাত্র ছেলে জারিফ ফারহান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চারতলায় আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন। জীবনযুদ্ধে লড়ছেন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র জারিফ। তার শরীরের ৩৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তবে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জীবন সঙ্কটাপন্ন।
কিছুক্ষণ পর হাবিবুর রহমান ছেলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আইসিইউ- এর সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘দুই সন্তানের মধ্যে জারিফ ছোট। ওরা আমার সম্পদ। ওরাই আমার সবকিছু। আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই। আব্বু (জারিফ) যেন আমার বুকে ফিরে আসে।’
জারিফের মামা আবু মো. শাহরিয়ার জানান, জারিফদের বাসা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে। তার বাবা ব্যবসায়ী। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জারিফ ছোট। প্রতিদিন সকালে তার মা রাশেদা ইয়াসমিন তাকে স্কুলে রেখে আসেন। ঘটনার দিনও স্কুলে রেখে বাসায় চলে আসেন তিনি। জারিফের একাই বাসায় ফেরার কথা ছিল। স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ছুটে যান ঘটনাস্থলে। কিন্তু সেখানে পাননি। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তার বাবা হাবিবুর রহমানকে ফোন করে জানান, জারিফকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এরপরই বাবাসহ আত্মীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। অবস্থা অবনতি হলে বিকেলে নেওয়া হয় আইসিইউতে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে লাইফ সাপোর্ট আছে জারিফ।
