ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে দল দানবে পরিণত হয়: আসিফ নজরুল

ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে দল দানবে পরিণত হয়: আসিফ নজরুল
×

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫ | ২০:০৮

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো দল যখন চিন্তা করে পাঁচ বছর পর ক্ষমতা হারাব, তখন ভয়ে হলেও তারা খারাপ কাজ কম করে। মানবাধিকার লঙ্ঘন কম করে। কোনো দলের ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে তারা দানবে পরিণত হয়। যেটি আমরা বিগত আওয়ামী শাসনামল দেখলে বুঝতে পারি।’

আজ শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ১১তম মানবাধিকার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ২০১১-১২ সাল পর্যন্ত দেশে মোটামুটি ভালো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার এসেছিল। যার কারণে আমরা কিছুটা হলেও ভালোর দিকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৩ সালের সময়েও অনেকগুলো মেয়র নির্বাচনে অন্য দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন পর্যন্ত স্বচ্ছতা ছিল।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে সেরা সময় কেটেছে ১৯৯১ থেকে ২০১২-১৩ পর্যন্ত। কারণ, তখন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার হস্তান্তর ছিল। এটি থাকলে জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে। তখন দেশ ভালোর দিকে এগিয়েছে। কোনো দলের ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে তারা দানবে পরিণত হয়। যেটা আমরা বিগত আওয়ামী শাসনামলে দেখলে বুঝতে পারি। যার কারণে এক হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।’ 

আসিফ নজরুল বলেন, ‘সবার আগে রাষ্ট্রের তিনটা প্রধান অঙ্গ নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই তিন বিভাগে সমস্যা রেখে কোনোভাবেই মানবাধিকার ঠিক রাখা যাবে না। আসল জায়গায় হাত দিতে হবে। আমরা এই জায়গাগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন খুবই কঠিন কাজ। অনেকে মনে করেন ভালো কিছু আইন করলেই বোধ হয় মানবাধিকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে হবে না।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী তিন–চারটা নির্বাচন যদি সঠিকভাবে করতে পারি, আইনগত প্রশাসনিক সংস্কার যদি সঠিকভাবে চলে, সবার মধ্যে মানবাধিকার চর্চার অনুশীলনটা যদি গড়ে ওঠে, তাহলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘আমাদের সামনে দুইটা বড় এবং কঠিন দায়িত্ব এই মুহূর্তে। এক হলো জুলাই এবং তার আগে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার বিচার করতে হবে। এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু ক্ষতিপূরণ দিলে হবে না, তাদের জীবনটা আসলে কীভাবে মেরামত করা সম্ভব, সেটির চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি কেন এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হলো? আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যাদের কাজ, তারা কেন উল্টো দিকে চলে গেল। সেটির কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারপারসন শাহজাদা আল আমিন। আরও বক্তব্য দেন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় (ইউএনআরসিও) বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. একরামুল হক, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থানে নিহত পরিবারের সদস্যরা, আহত ও গত সরকারের সময় গুমের শিকার ব্যক্তিরাও সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×