ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার

সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার
×

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মঙ্গলবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহতসহ সর্বস্তরের মানুষ মাহবুব হোসেন নবীন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:২৬

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকানোর দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে।
রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান করে। সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, পদযাত্রা, দোয়া-প্রার্থনা, বিনামূল্যে চিকিৎসা, রক্তদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা গণসমাবেশ করে। দলের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, জুলাইয়ের ত্যাগের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে যেন আর কোনো খুনি, ফ্যাসিস্ট ও অর্থ পাচারকারী তৈরি না হয়। কিন্তু এখনও চাঁদাবাজ, খুনি ও তাঁবেদাররা বিদ্যমান। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল-বাণিজ্যে লিপ্ত, তাদের প্রতিহত করতে প্রয়োজনে আবার গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে নেতারা বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেনি। বিশেষ দু-একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে যে ঘোষণাপত্র করা হলো, তার দায়-দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি না।

জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্সের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন মোহাম্মদ শাহ আলম, বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইকবাল কবীর জাহিদ প্রমুখ।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয় হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে এ অর্জন, ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চাইছে। মুক্তিকামী দেশপ্রেমিক মানুষ এটি মেনে নেবে না। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সমাবেশে নব্য ফ্যাসিবাদী প্রবণতা রুখে দাঁড়াতে সব বাম প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল-সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজে ও ডিইউজে সমাবেশ করে। এতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এক বছরেও গণমাধ্যমের সংস্কার ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন বাস্তবায়িত হয়নি। সমাবেশে বক্তৃতা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন প্রমুখ।
 

উদযাপনে আরও আয়োজন
সেতু বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষ রাজধানীর বনানী সেতু ভবন মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ শাহবাগে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সেগুনবাগিচায় আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান করে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনসংলগ্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল করে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জুলাই শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা করে। ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কারওয়ান বাজারে আলোচনা সভা করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের সচিব সেবাস্টিন রেমা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সদস্য সন্তানদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী হয়েছে। বাংলাদেশি চারুশিল্পী সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শোক ও বিজয় শোভাযাত্রা করেছে।
সম্মিলিত নারী প্রয়াস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা তাসনীমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ পারভীন সুলতানা হায়দার, জুলাইয়ের শহীদ নাফিসের মা নাজমা আক্তার নাসিমা প্রমুখ।
পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। যুদ্ধ করে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমরা আর যুদ্ধ করতে চাই না। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ দেশ রেখে যেতে চাই। যে চেতনা নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ধারণ করে দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

আরও পড়ুন

×