প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলা
‘প্রহসনে’র বিচার বললেন টিউলিপ
টিউলিপ সিদ্দিক
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৪৩ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৪৪
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় বাদীদের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। এ বিচার প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।
বুধবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালতে বাদীরা সাক্ষ্য দেন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৮ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। সাক্ষীরা হলেন– দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া ও সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
‘প্রহসনের বিচার’
বাংলাদেশে দুর্নীতির বিচারকে ‘প্রহসন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। যুক্তরাজ্যের সাবেক এ নগরবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ঢাকা কর্তৃপক্ষ ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিযোগ এনেছে। বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার আদালতে বাদীরা সাক্ষ্য দেওয়ার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে টিউলিপ এসব দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বর্তমানে চলমান তথাকথিত বিচার প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়, যা বানোয়াট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ও স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত।’
টিউলিপ বলেন, ‘গত বছর থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। তবুও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে একবারও যোগাযোগ করেনি। আমি কখনও আদালতের সমন পাইনি। আমার সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি বা এসবের কোনও প্রমাণও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি তাদের আইনী প্রক্রিয়া যথাযত হতো, তাহলে কর্তৃপক্ষ আমি বা আমার আইনি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করত। আমাদের আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্রের জবাব দিত এবং তারা যেসব প্রমাণ দাবি করছে, তা উপস্থাপন করত।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ বলেন, ‘এসবের পরিবর্তে তারা মিথ্যা ও বিরক্তিকর অভিযোগ প্রচার করেছে, যা গণমাধ্যমকে জানাচ্ছে। কিন্তু আমাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।’
গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। চার্জ গঠন শুনানির সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পৃথক তিন মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, শেখ হাসিনাসহ ১৮ এবং রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
গত ২০ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ ও ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ তিনটি করে মোট ছয়টি মামলা বিচারের জন্য পাঠানো হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আছেন– জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস।
- বিষয় :
- রাজউক
- টিউলিপ সিদ্দিক
- টিউলিপ
