সংবাদ সম্মেলনে অপুর স্ত্রী
ভিডিওতে জোরপূর্বক চাঁদাবাজির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জানে আলম অপুর স্ত্রী আনিসা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:২০
রাজধানীর গুলশানে সাবেক একজন এমপির বাসায় চাঁদা আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার রাতের এই ভিডিওটি বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন জোরপূর্বক অপুকে দিয়ে বানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অপুর স্ত্রী আনিসা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে এ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অপু মিসিং ছিলেন। মিসিং ছিল বলতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাইকে করে অপুকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল (বুধবার) অপুর স্বীকারোক্তির ৩৫ মিনিটের যে ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছে, ওই স্থানে অল্প অল্প করে শিখিয়ে অপুকে দিয়ে সেই ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। ’
আনিসা বলেন, ‘অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে গোপীবাগের একজনের বাসার সামনে থেকে। কিন্তু তাকে ১১টার পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মাঝখানের এই সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় অপুকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই কয়েকদিন আমাদেরও পুলিশ ও ডিবি হয়রানি করেছে।’
অপুর সঙ্গে গত ৮ আগস্ট কারাগারে দেখা হয়েছিল জানিয়ে তার স্ত্রী বলেন, ‘সেখানে অপু আমাকে কিছু তথ্য দেয়। অপু বলে-আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে একটি বড়সড় ভিডিও বানানো হয়েছে। যে কোনো সময় ভিডিওটা প্রকাশ করতে পারে। যদি প্রকাশ করে তাহলে তোমার সম্ভব হলে আমাকে নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করো। এজন্যই আমার আজকে সংবাদ সম্মেলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপু চাাঁদাবাজি করেনি, অপুকে দিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করায়ওনি। অপু কারও পরিকল্পনায় ফেঁসে গেছে। তাকে ব্যবহার করে একটা দল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে, কাউকে দাবানোর জন্য।’
এ সময় কোন দলকে তিনি ইঙ্গিত করছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসা বলেন, ‘গোপীবাগে ইশরাক ভাইয়ের বাসা এটা সবাই জানে। অপুকে ইশরাক ভাইয়ের বাসার সামনে থেকেই ধরছে। যেসব ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সেগুলো ইশরাক ভাইয়ের বাসার। অপুকে ধরে নিয়ে ইশরাক ভাই জোরপূর্বক এসব করাইছে, এখানে সন্দেহের কিছু নেই।’
- বিষয় :
- ইশরাক হোসেন
- চাঁদাবাজি
