ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নারী ১৩ শতাংশ
ছবি-সংগৃহীত
মাজহারুল ইসলাম রবিন ও যোবায়ের আহমদ
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ | ০১:১২ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৫ | ০৯:৩৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই করেছে প্রশাসন। মোট ৫০৯টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ৪৬২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন এসব তথ্য জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ৬৫৮ মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হলেও জমা পড়ে ৫০৯টি। এর মধ্যে বাছাইয়ে বৈধ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৪০২; ছাত্রী ৬০। মোট বৈধ প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ ছাত্রী।
চলতি বছর প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ সালের বার্ষিক বিবরণীর তথ্যমতে, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র শতকরা ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ আর ছাত্রী ৪২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মনোনয়নপত্র স্থগিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৪৭ প্রার্থী আগামীকাল শনিবারের মধ্যে আপিলের সুযোগ পাবেন। বৈধ মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ৪৩ ছাত্র থাকলেও ছাত্রী মাত্র ৫। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজন ছাত্রী। এ ছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৮ প্রার্থীর মধ্যে চার ছাত্রী রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৫ প্রার্থীর মধ্যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১১ প্রার্থীর মধ্যে এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ছাত্রী রয়েছেন একজন করে। সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৩, ছাত্র ও পরিবহন সম্পাদক পদে ৯ এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১৫ প্রার্থীর সবাই ছাত্র। অবশ্য ব্যতিক্রম কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে। ১১ প্রার্থীর ৯ জনই ছাত্রী।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত সানজিদা আহমেদ তন্বির প্রতি সম্মান দেখিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রার্থী দেয়নি ছয়টি প্যানেল। এরপরও এ পদে বৈধ প্রার্থী ১১ জন, যাদের মধ্যে চার ছাত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১৯ প্রার্থীর মধ্যে ছাত্রী মাত্র দুজন। ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে ৯ প্রার্থীর সাতজনই ছাত্র। মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ছাত্রী তিনজন। অন্যদিকে সদস্যপদে ২১৫ প্রার্থীর মধ্যে ছাত্র ১৯১; ছাত্রী ২৪।
হল সংসদে প্রার্থী সহস্রাধিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন হল ১৮টি। প্রতিটি হল সংসদে ভিপি, জিএসসহ পদ ১৩টি। সব হল মিলিয়ে পদ ২৩৪টি। এর বিপরীতে এবার ১ হাজার ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। শুধু ফজলুল হক মুসলিম হলে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ছাত্রীদের পাঁচটি হলে কোথাও মোট পদের দ্বিগুণের বেশি, কোথাও তিন গুণের বেশি ছাত্রী প্রার্থী হয়েছেন। কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ১৩টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪০ জন, রোকেয়া হলে ৪৫ জন, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ৩১ জন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩৬ জন আর শামসুন নাহার হল সংসদে প্রার্থী হয়েছেন ৩৬ জন ছাত্রী। শামসুন নাহার হল এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ওই দুই হলে বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না।
প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ছাত্রদের ফজলুল হক মুসলিম হলে ১৩ পদে ৬৪ জন, জগন্নাথ হলে ৫৯ জন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৬২ জন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে ৭০ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৭৮ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৮১ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৭৭ জন, কবি জসীম উদ্দীন হলে ৬৯ জন, স্যার এ এফ রহমান হলে ৬৭ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৬৫ জন, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৬৮ জন, মাস্টারদা সূর্য সেন হলে ৭৯ জন এবং অমর একুশে হল সংসদে প্রার্থী হয়েছেন ৮১ জন।
৯ প্যানেলের শীর্ষ পদে ছয় নারী
ডাকসু নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৯টি প্যানেল ঘোষণা হয়েছে। এগুলো হলো– জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, সাতটি বাম ছাত্র সংগঠনের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, উমামা-সাদীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, তিন বাম ছাত্র সংগঠন সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’, জামালুদ্দীন খালেদ ও মাহিন সরকারের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত প্যানেল ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’। এসব প্যানেলে ২৪টি শীর্ষ পদের বিপরীতে নারী প্রার্থী মাত্র ছয়জন।
ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্যানেলের শীর্ষ পদে কোনো ছাত্রী নেই। বাকি ছয় প্যানেলে ভিপি পদে দুজন, জিএস পদে একজন এবং এজিএস পদে তিনজন ছাত্রী প্রার্থী হয়েছেন।
ভিপি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের উমামা ফাতেমা এবং প্রতিরোধ পর্ষদের শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ভিপি পদে বাকি তিন নারী কোনো প্যানেলের নন।
এ ছাড়া জিএস পদে আছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবিনা ইয়াসমিন। এজিএস পদে আছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আশরেফা খাতুন, সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদের ফাতেহা শারমিন এ্যানি ও অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪-এর অদিতি ইসলাম।
শিবিরের প্যানেলে এক হল থেকে ৯ প্রার্থী
নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলে ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে লোকপ্রশাসন বিভাগের মহিউদ্দিন খান সংগঠনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে খান জসিম, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাজ্জাদ হোসেন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে এম এম আল মিনহাজ, মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে সাখাওয়াত জাকারিয়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে নুরুল ইসলাম সাব্বিরও বিজয় একাত্তর হলের। এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে লড়বেন বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ইমরান হোসাইন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাজহারুল ইসলাম মুজাহিদ ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম।
উমামার প্যানেলে সাংবাদিকতা বিভাগের ছয় প্রার্থী
গতকাল অপরাজেয় বাংলার সামনে সংবাদ সম্মেলনে উমামা ফাতেমা ও আল সাদী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এ প্যানেলে ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা হলেন– মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে নূমান আহমাদ চৌধুরী, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে রাফিজ খান, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্যপদে নওরীন সুলতানা তমা, ববি বিশ্বাস ও সাদেকুর রহমান সানি। এ প্যানেলে ছয় নারী ও দুজন আদিবাসী রয়েছেন।
- বিষয় :
- ছাত্র সংসদ
- ডাকসু
