গবেষণা প্রতিবেদন
ফসলে রোগ বাড়ায় কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে ৮১.৫ শতাংশ
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:৩৮
বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হওয়ার জায়গাটা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে ফসলে রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় গত পাঁচ বছরে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। ধান, শাকসবজি থেকে শুরু করে ফলমূল, এমনকি মাছ চাষেও ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে কীটনাশক।
রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জার্নালিস্ট ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ অন পেস্টিসাইড রিস্ক রিডাকশন’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এ আয়োজন করে সেন্টার ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োসায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল (কাবি)। তথ্য প্রদান ও প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবন উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটি।
কাবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। ১৯৭২ সালে যেখানে ব্যবহার ছিল মাত্র চার হাজার টন, ২০২২ সালে তা দাঁড়ায় ৪০ হাজার টন। ১৯৯৭ সালে ১১ হাজার ৩৬৭ টন ব্যবহার হলেও ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় ৩৯ হাজার ২৪৩ টন। ২০২৩ সালেও ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই ছিল– ৩৯ হাজার ১৫৭ টন। দেশে বর্তমানে আট হাজার ১৩টি কীটনাশকের নিবন্ধন রয়েছে। এর মধ্যে বাজারে ব্যবহার হচ্ছে ৩৬৩টি। নিবন্ধিত কোম্পানি ৭৫৪টি। বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক ছাইফুল আলম বলেন, খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সে হারে বাড়েনি। তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য সামনে রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএইর সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল মুঈদ বলেন, দেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের ৬৪ শতাংশই কৃষক। সরাসরি স্প্রে করতে গিয়ে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।
কর্মশালায় কাবির প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ড. দিলরুবা শারমিন জানান, কীটনাশক শুধু কৃষি ফসলেই নয়, মাছ চাষেও ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে শুঁটকিতে এ প্রবণতা বাড়ছে। এর প্রভাবে ঘরে ঘরে ক্যান্সার রোগী বাড়ছে।
কাবির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সালেহ আহমেদ বলেন, কীভাবে কীটনাশকের ব্যবহার সীমিত করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা ও কার্যক্রম চলছে।
কাবির এশিয়া অঞ্চলের ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন ম্যানেজার আজমত আব্বাস বলেন, সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। কৃষককে বুঝিয়ে বলতে হবে, সব সময় কীটনাশকই সমাধান নয়। বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন– জৈব কীটনাশক বা সমন্বিত পোকা ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই কৃষক অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছেন দ্রুত লাভের আশায়। অন্যদিকে কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতাও এই প্রবণতাকে উস্কে দিচ্ছে।
কর্মশালার আলোচকরা বলেন, কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নেবে। কৃষক, ভোক্তা, সরকার এবং কোম্পানি–সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
