আফগানিস্তান সফরে খেলাফত মজলিসের আমির
আফগানিস্তান সফরে গেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ সাতজন
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৩ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:৩০
বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তান সফরে গেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ সাতজন। গত বুধবার সকালে কাবুলে পৌঁছেন তারা। দলটি জানায়, ‘ইমারাতে ইসলামিয়া’ বা তালেবান সরকারের আমন্ত্রণে সফরকারী দলটি আফগানিস্তানে গেছে। কাবুলে তাদের তালেবান সরকারের প্রধান বিচারপতি, একাধিক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার ও নারী অধিকার বিষয়ে পশ্চিমা মহলে তালেবান সরকার নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সেখানে আসলে নারী অধিকার লুণ্ঠন বা হরণ হচ্ছে কিনা, এটা বাস্তবে দেখল তারা। অনেক সময় হয় না যে, একটা বিষয়ে ভুল ধারণা থাকে। এই বিষয়টা তারা জানল আসলে বিষয়টা সত্য কিনা।’
খেলাফত মজলিসের আমির ও তাঁর প্রতিনিধি দল এমন এক সময়ে এই সফর করছেন, যখন ঢাকায় দলটি বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি তাদের। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করছে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ।
আফগানিস্তানে ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর ক্ষমতাসীন তালেবান সে দেশের নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া নিষিদ্ধ করে। প্রাইভেট টিউশন কেন্দ্রগুলোর প্রতি আদেশ দেয়, যেন তারা কোনো ছাত্রীকে শিক্ষাদান না করে। নতুন করে আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে নারীদের লেখা বই সরিয়ে দিয়েছে তালেবান সরকার। মানবাধিকার ও যৌন হয়রানিবিষয়ক পাঠদানের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ সফর নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা আফগানিস্তানে গিয়েছেন, এমন নজির নেই। এই প্রথম কোনো দলের নেতাদের আফগানিস্তান সফরের কথা শুনছেন তারা। দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বিবিসি বাংলাকে জানান, এটি দলীয় সফর নয়। বরং ওলামা সমাজের সফর। একই সঙ্গে সফরে দলের আমির মামুনুল হক থাকলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, এমন অনেকে আছেন। জালালুদ্দীন আহমদ জানান, এর আগে ২০০১ সালে ‘ওলামা সমাজ’ আফগানিস্তান সফর করেছে।
তালেবানের সঙ্গে খেলাফত মজলিসের সম্পর্ক
রাশিয়া ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে অর্থনৈতিক লেনদেন করছে বেশ কয়েকটি দেশ। এমনকি বাংলাদেশের দূতাবাস নেই আফগানিস্তানে। তবে বাংলাদেশে আফগানিস্তানের দূতাবাস আছে। উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস সমদূরবর্তী মিশন হিসেবে আফগানিস্তানে কাজ করে থাকে।
এসব প্রেক্ষাপটে দেশটির তালেবান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের কী বা কেমন সম্পর্ক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, আলেম সমাজের পক্ষে আলোচনা ও সম্পর্কোন্নয়নের জন্য এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে কট্টর পন্থা বাস্তবায়ন সম্ভব না
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, এই ধর্মভিত্তিক দলটি হয়তো ইসলামী শাসনের মডেল নিয়ে ধারণা পেতে আফগানিস্তান সফর করছে। তিনি বলেন, ‘ফরমালি যেটা বিভিন্ন সোর্স থেকে শুনি বা জানি, আফগানিস্তানের ইসলামী শাসনের মডেল নিয়ে বাংলাদেশের একটা শ্রেণির মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হইছে। সম্ভবত তারা ওই সম্পর্কে একটা ধারণা নেওয়ার জন্য আফগানিস্তানে গেছে।’
এই মডেল অনেক বেশি রিজিড (কট্টর), শরিয়াপন্থি। অতটা লিবারেল (উদার) না। এ ধরনের মডেল বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘তারা হয়তো একটা ওয়ে আউট দেখতে চাচ্ছে– ইসলামী শাসনের মডেলটা কী। সেই মডেলটা হয়তো তারা বাংলাদেশে কাজে লাগাইতে চাইতে পারে।’ তবে এমন বিষয় নাকচ করে দিয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে তো এই আইন বাস্তবায়ন করার প্রশ্ন নাই, যেহেতু ইসলামিক সরকার নাই। আফগানিস্তানের শাসন, সরকার ব্যবস্থা এক রকম; বাংলাদেশের শাসন ও সরকার ব্যবস্থা ভিন্ন রকম।’
- বিষয় :
- মামুনুল হক
