ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বেচবেন একই ডিলার

ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বেচবেন একই ডিলার
×

.

জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৪ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:৪৩

সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সারের বাজার। সরকারের ভর্তুকির সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছায় না। এ প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন সার নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯’ সংশোধন করা হচ্ছে। শিগগির নীতিমালা উপদেষ্টা পরিষদে পাস হতে পারে।

ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সুষ্ঠু বণ্টনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এ নীতিমালার উদ্দেশ্য। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আলাদা ডিলার ব্যবস্থা বাতিল, ডিলারের সংখ্যা বৃদ্ধি, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বাদ দেওয়া, আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত নজরদারি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিতরণব্যবস্থা চালুর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় এক ছাতার নিচে আসছে দেশের সার ব্যবস্থাপনা।

বাড়ছে ডিলার, বাদ কারসাজিতে জড়িতরা
সার ডিলার সাত হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে বিএডিসির অধীনে পাঁচ হাজার ২২ জন এবং বিসিআইসির অধীনে দুই হাজার ১১৮ জন। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার আছে। নতুন নীতিমালায় প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে, অর্থাৎ প্রতি ইউনিয়নে ৯ জন ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একচেটিয়া দখল বা সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না।
নীতিমালায় অনিয়মকারী ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী বা বাবা-ছেলে মিলে ডিলারশিপ নিয়েছেন। এটা কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন নীতিমালায় এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ থাকছে না।

সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি আমদানি ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে একই সারের জন্য একাধিক দরদাতা ভিন্ন প্রস্তাব দিলে সরকারকে টনপ্রতি ২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি দিতে হতো। এখন থেকে শুধু সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজির সুযোগ না রাখতে বাজারদর যাচাই করে সরকারই সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ করে দেবে। ওই হারের ওপর প্রস্তাব করে সার সরবরাহ করতে হবে।

এক ছাতার নিচে ব্যবস্থাপনা
বর্তমানে ইউরিয়া সার বিতরণ করছেন বিসিআইসির ডিলাররা। আর নন-ইউরিয়া সার দেন বিএডিসির ডিলাররা। কৃষকদের আলাদা জায়গায় গিয়ে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি সময় ও খরচ বেশি হচ্ছে। বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের এমন বিভাজন এবার শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন সার নীতিমালায় আর আলাদা করে বিএডিসি বা বিসিআইসির ডিলার থাকবে না। সব ডিলারকে সরকারি সার ডিলার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, খুচরা বিক্রেতা বা তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা থাকবে না। কৃষক সরাসরি সরকারি ডিলার বা ডিলার মনোনীত দোকান থেকে সরকার নির্ধারিত দামে সার সংগ্রহ করতে পারবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে সব ডিলারশিপ। ফলে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া দুই ধরনের সার একই ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সার সরবরাহ আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। একই সঙ্গে কৃষকের সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে। পুরো সার ব্যবস্থাপনা এক ছাতার নিচে এলে কারসাজি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগির তা কার্যকর হবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে সার বিতরণ ব্যবস্থা ও কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, নিরবচ্ছিন্নভাবে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, নতুন নীতিমালা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে নজরদারি থাকতে হবে, যাতে সরকার নির্ধারিত দামে সার বেচা হয়।

আজ কৃষি উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলন
কৃষি মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরের সাফল্য, অর্জন ও সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা সার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, মাঠ পর্যায়ে সারের চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি এবং কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

আরও পড়ুন

×