ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্যাংককে রিজওয়ানা হাসান

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান
×

রিজওয়ানা হাসান

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন  পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে উন্নত বিশ্বকে বাড়তি অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বুধবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নবম এশিয়া-প্যাসিফিক জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, সাহসী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শুধু জীবন রক্ষা করেনি; বরং ভূমি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাও সুরক্ষিত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার আওতায় আটটি ক্ষেত্রে ১১৩টি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড বিশ্বের প্রথম দেশীয় অভিযোজন তহবিল হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৭৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন, যাদের অর্ধেক সংখ্যক নারী। স্থাপন করা হয়েছে চার হাজার ২৯১টি ঘূর্ণিঝড় ও ৫২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ উদ্ধার নৌযান এবং উপকূলীয় এলাকায় কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সব খাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। এ জন্য জলবায়ুবান্ধব প্রযুক্তি, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অভিযোজন সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী নীতি ও শাসন ব্যবস্থা, জনগণভিত্তিক নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ এ ক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তি দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের উদ্ভাবন, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো বাংলাদেশের অভিযোজন সক্ষমতাকে বিশ্বে অনন্য করে তুলেছে।
এই বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন জাপানের পরিবেশ বিষয়ক উপমন্ত্রী ডোই কেনতারো, যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি জন ওয়ারবার্টন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির আঞ্চলিক পরিচালক দেচেন সেরিং, ফিলিপাইনের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব নোরালেন উয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের থাইল্যান্ড মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর আনুজ মেহতা।

আরও পড়ুন

×