ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শহিদুল আলমদের জাহাজের ওপর বিমানের চক্কর

শহিদুল আলমদের জাহাজের ওপর বিমানের চক্কর
×

ছবি-ফেসবুক থেকে নেওয়া

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০১:০৬ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:১৬

গাজার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজ কনসায়েন্সের ওপর সামরিক বিমানের চক্কর দেখা গেছে। এই জাহাজেই রয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। মনে করা হচ্ছে, বিমানটি ইসরায়েলি সামরিক বিমান। তারা তথ্য সংগ্রহ অথবা ভয় দেখানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে মনে করেন জাহাজটিতে থাকা কর্মীরা।

গতকাল রোববার দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলমের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওতে এসব তথ্য জানানো হয়। জাহাজটি থেকে করা ফেসবুক লাইভে সমুদ্রের আকাশে বিমানটিকে দেখা যায়। লাইভটি করেন অধিকারকর্মী উইলিয়াম আলেকজান্ডার। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের চারপাশে কয়েকবার ঘোরার পর একটি বড় সামরিক বিমান এইমাত্র সরাসরি আমাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। নিঃসন্দেহে এটা অপ্রয়োজনীয়। তারা আমাদের ওপর একটি চক্কর দিয়েই সম্ভবত সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারত। এরপর তারা থাউজেন্ড ম্যাডলিন ফ্লিটের দিকে চলে গেছে। সম্ভবত তথ্য সংগ্রহের জন্য এ কাজ করেছে তারা। আমার ধারণা, তারা আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।’

বিমানটি উড়ে যাওয়ার সময় লাইভ ভিডিওতে কনসায়েন্সের আরেক যাত্রী সতর্কবার্তা দেন, ‘সতর্ক থাকুন। খুব ধীরে ধীরে এগোবেন। স্বাভাবিক থাকুন। তাদেরকে আমাদের সঙ্গে খেলতে দেবেন না।’ পরে উইলিয়াম জাহাজের ভেতরের ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জাম দেখিয়ে বলেন, ‘আমার পেছনে প্রচুর ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম রয়েছে। এগুলো আমরা কনশানস জাহাজে করে গাজায় নিয়ে যাচ্ছি।’

জাহাজের ক্যাপ্টেন ম্যাডেলেইন হাবিব বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করছি, এবার আমরা গাজায় পৌঁছাব। সত্যিকারে একটি শান্তি প্রক্রিয়ার আশা করছি এবং আমাদের আটকানো হবে না। আমরা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্থায়ী করিডোর চাই, যাতে তারা সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করতে পারে।’

ভিডিওতে ওই জাহাজে থাকা মার্কিন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা টম হায়েস বলেন, ‘একজন আমেরিকান হিসেবে আমাদের এখন কী করা উচিত? আমাদের অবশ্যই প্রতিটি ফোরামে ও সম্ভাব্য প্রতিটি উপায়ে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পথ সুগম হয়।’

কনসায়েন্স জাহাজটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)’ ও ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি)’ নৌবহরের অংশ, যা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে চেষ্টা করছে।

এর আগে আরেক পোস্টে তিনি ঠিক তিনি কোথায় আছেন, গাজায় পৌঁছাতে আর কত সময়ইবা লাগবে ইত্যাদি প্রশ্নের জবাব দেন। শহিদুল আলম লেখেন, ট্র্যাকার ব্যবহার করে আমাদের যাত্রাপথ অনুসরণ করা সবচেয়ে ভালো উপায় হবে। ‘ফরেনসিক আর্কিটেকচার’ সাইটের মাধ্যমে কনসায়েন্স ও থাউজেন্ড ম্যাডলিনস উভয় নৌবহরের যাত্রাপথ ট্র্যাক করা হচ্ছে।

গাজায় কখন পৌঁছাবে জাহাজ– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি লেখেন, ‘অতীতের ঘটনাগুলো দেখলে বোঝা যায়, তারা আমাদের যেতে দেবে না। আটক করা হতে পারে। এরপর আমাদের ফেরত নয়তো কারাগারে পাঠানো হতে পারে। কখন, কোথায় এটা ঘটতে পারে, তা আগে থেকে বোঝা অসম্ভব। এটা আমাদের হাতে নেই।’ 
এর আগে বেলা ১১টায় এক পোস্টে শহিদুল আলম বলেন, ‘শান্ত সমুদ্র আর দারুণ রোদ। গত রাতটা খোলা ডেকে ঘুমিয়েছি। আজ (রোববার) আমাদের গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ছোট নৌকাগুলোর কাছাকাছি থাকতে গতি কমিয়ে দেওয়ায় এখন আরও দেরি হবে। তবে বিপদের এলাকা তার অনেক আগেই শুরু হয়, আর কোথায় বা কখন আমাদের আটকানো হতে পারে, তা আগেভাগে বলা কঠিন।’ 

শহিদুল আলম কনসায়েন্স নামের যে নৌযানটিতে অবস্থান করছেন, সেটিকে তিনি ওই বহরের সবচেয়ে বড় নৌযান বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি সবার শেষে (গত ৩০ সেপ্টেম্বর) ইতালি থেকে রওনা করেছিল। আর কনসায়েন্সের আগে আটটি নৌযান রওনা করেছিল। এ ছাড়া আরও দুটি নৌকাও আগে ছিল। তবে ওই দুটি নৌকার অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়। কনসায়েন্স সবার শেষে রওনা করলেও এটির গতি বেশি হওয়ায় আগের আটটি নৌযানকে ছুঁয়ে ফেলেছে। 

আরও পড়ুন

×