ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গ্যাস এনেও উৎপাদন সাশ্রয়ী তবু বাড়ছে সার আমদানি

গ্যাস এনেও উৎপাদন সাশ্রয়ী তবু বাড়ছে সার আমদানি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এই সার উৎপাদনের মূল কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাস সংকটে বছরের বেশির ভাগ সময় সার কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। ফলে প্রতিবছর দেশে সার উৎপাদন কমছে। চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাড়ছে আমদানি। এতে একদিকে সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভর্তুকিও দিতে হচ্ছে। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে ইউরিয়া উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চায় সরকার।

পেট্রোবাংলা বলছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিলে চাহিদা অনুসারে গ্যাস দেওয়া সম্ভব। এ জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিসিআই) বলেছে, গ্যাসের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়িয়ে যদি ২০ লাখ মেট্রিকটন ইউরিয়া দেশে উৎপাদন করা যায়, তাহলে আমদানি মূল্যের চেয়ে প্রতি টনে দুই হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। 

সরকারিভাবে পাঁচটি কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয়। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৩১ লাখ টন। ৮০ শতাংশ দক্ষতায় চাহিদা অনুসারে গ্যাস সরবরাহ করলে বছরে প্রায় ২৪ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করা হয় প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদন ১১ লাখ ২৩ হাজার টন। প্রতি টনের আমদানিতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৩১ হাজার ৫৪৭ টাকা। দেশে উৎপাদিত ইউরিয়ায় ভর্তুকি দিতে হয় ১৩ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরিয়া সারে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৬ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা।

গ্যাসের অভাবে কারখানা বন্ধ
সরকারি ইউরিয়া সার কারখানাগুলো হলো– চট্টগ্রামের চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, জামালপুরের যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি, সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি এবং  নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কোম্পানি। এর মধ্যে গ্যাসের অভাবে গত অর্থবছরে যমুনা সার কারখানা বন্ধ ছিল ৩৫১ দিন। চালু ছিল মাত্র ১৪ দিন। আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ ছিল ২৫৯ দিন। শাহজালাল সার কারখানা বন্ধ ছিল ১৪৭ দিন। চট্টগ্রাম ইউরিয়া কারখানা বন্ধ ছিল ৮১ দিন। ঘোড়াশাল সার কারখানা প্রায় সারাবছর চালু ছিল। 

সার কারখানাগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২৪ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল সোমবার সরবরাহ ছিল ১১ দশমিক ৪ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ঘোড়াশালের দৈনিক চাহিদা ৭ দশমিক ২ কোটি ঘনফুট, শাহজালালের চাহিদা ৪ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের চাহিদা ৪ দশমিক ৩ কোটি ঘনফুট,  যমুনার চাহিদা ৪ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট এবং আশুগঞ্জের চাহিদা ৪ দশমিক ৮ কোটি ঘনফুট। 

কমছে উৎপাদন বাড়ছে আমদানি
বিসিআইসির তথ্য বলছে, ২০০৬-০৭ সালে তারা সার উৎপাদন করেছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার টন। কমতে কমতে ২০২১-২২ সালে উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ১০ হাজার টন এবং আমদানি করা হয় ১৭ লাখ চার হাজার টন। ২০২২-২৩ সালে উৎপাদন সাত লাখ ৪১ হাজার টন, আমদানি ২০ লাখ ৭৪ হাজার টন। ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন ছয় লাখ ৭২ হাজার টন এবং আমদানি ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টন । তবে গত অর্থবছরে উৎপাদন ১১ লাখ ২৩ হাজার টন, আমদানি করা হয়েছে ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টন। 

গত অর্থবছরে ঘোড়াশালের নতুন সার কারখানা আট লাখ টন উৎপাদন করেছে। সেই হিসাবে পুরোনো চার কারখানায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র দুই লাখ টন। কারণ পুরোনো কারখানাগুলোর জ্বালানি দক্ষতা কম। 

পেট্রোবাংলার প্রস্তাব
গত ১০ আগস্ট এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সার কারখানায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পেট্রোবাংলা। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে ১০৮ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। দাম বাড়ানো হলে আরও ৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করে সারে সরবরাহ বাড়ানো হবে। পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানিতে খরচ হবে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। সারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আয় হবে ৪৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এরপরও ঘাটতি থাকবে আট হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। সরকারের ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বিবেচনায় নিলেও ঘাটতি থাকবে দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

পেট্রোবাংলা বলছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব অনুসারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বছরের ছয় মাস (অক্টোবর-মার্চ) পুরোমাত্রায় (২৫ কোটি ঘন ফুট) গ্যাস দেওয়া হবে। বাকি ছয় মাসের মধ্যে এপ্রিল-মে ১৬ দশমিক ৫ কোটি, জুনে ১৭ দশমিক পাঁচ কোটি এবং জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

গণশুনানিতে বিরোধিতা
সার কারখানায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গতকাল সোমবার গণশুনানি করে বিইআরসি। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি চলে। এতে পেট্রোবাংলা ও ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি দাম বাড়ানোর অভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে। 

শুনানিতে অংশ নিয়ে নাগরিকদের কেউ কেউ গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে সারের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এরপর সেই অজুহাতে সারের দাম বাড়ানো হবে। এতে কৃষিপণ্যের খরচ বাড়বে, যা ভোক্তার ওপর প্রভাব পড়বে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষক পর্যায়ে সারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। বাড়তি উৎপাদন খরচের দায় যদি সরকার ভর্তুকি দিয়ে মেটায়, তাহলে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। বিসিআইসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০২২ সালে গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাম বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৪৫ টাকা থেকে ১৬ টাকা করা হয়েছিল, সেটি রক্ষা করা হয়নি। বরং সরবরাহ কমেছে। 

তিনি বলেন, পুরো মাত্রায় যদি গ্যাস দেওয়া হয় তাহলে ২০ লাখ টনের ওপরে সার উৎপাদন সম্ভব। গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট ৩০ টাকা করে যদি ২০ লাখ টন উৎপাদন কর যায় তাহলে প্রতি কেজি সারের উৎপাদন খরচ পড়বে ৪৬ টাকার মতো; যা আমদানি মূল্যের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কম।

শুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ১৭ কোটি মানুষকে খাইয়ে পরিয়ে রাখছে কৃষি। সে কারণে কৃষির জন্য বোঝা তৈরি করা যাবে না। সার কারখানায় উৎপাদন ধরে রাখতে হবে। আবার পেট্রোবাংলার ঘাটতিও করা যাবে না। সব দিক চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। শুনানিতে সবার মতামত বিবেচনা করা হবে। এর বাইরে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত মতামত দিতে পারবেন।

ক্যাবের বর্জন
শুনানিতে অংশ নেবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিল ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সমকালকে বলেন, দাম বাড়ানোর পর গ্যাস পাবে কোথায়? আগেও গ্যাস দেবে বলে দাম বাড়ানো হয়েছিল। এভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর সারের দাম বাড়বে। সারের দাম বাড়লে কৃষি ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর খাদ্যও আমদানি করতে হবে।

বছরের ৯ মাস বন্ধ সিইউএফএল
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, গ্যাসের অভাবে বছরের ৯ মাস বন্ধ থাকছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কারখানা বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ খাতে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কয়েকশ ফুটের ব্যবধানে থাকা বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছে। 

সিইউএফএল সূত্র জানায়, এ কারখানায় দৈনিক ৪ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ২ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ টন। কিন্তু কোনো গ্যাসই পাচ্ছে না। অন্যদিকে দিনে দুই হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাফকোতে গ্যাস লাগে ৪ দশমিক ২ থেকে ৪ দশমিক ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস। চুক্তির আওতায় এই কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক দরে ডলারে সার কিনতে হয়। সম্প্রতি কোম্পানিটির সঙ্গে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ৩০ টাকা দরে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। 

সিইউএফএলের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কারখানাটি বন্ধ থাকে ১২৩ দশমিক ১৫ দিন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্ধ থাকে ১০৬ দশমিক ১৭ দিন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্ধ থাকে ৮১ দিন। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় সিইউএফএল কারখানায় গত ২ অক্টোবর সরেজমিন দেখা গেছে, উৎপাদনের চাকা বন্ধ থাকায় অনেকটাই প্রাণহীন কারখানাটি। নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কর্মব্যস্ততা। কারখানা চালু না থাকলেও প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন তারা। তবে মুখে হাসি নেই, আছে চাকরি হারানোর ভয়। এ ছাড়া সিইউএফএল রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারের। আবার সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন খাতে গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এভাবে অর্থ ব্যয়ের পরও কারখানাটিকে উৎপাদনহীনভাবে বসিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিইউএফএল সিবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন সমকালকে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে বছরের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে কারখানা। দেশের কারখানা বন্ধ রেখে সরকার বিদেশ থেকে বেশি মূল্যে সার কিনছে।  বিসিআইসি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ বলেন,  আওয়ামী সরকারের আমলের মতো সিইউএফএল এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এ কারখানায় গ্যাস বন্ধ রেখে এবং সারের উৎপাদন ঘাটতি দেখিয়ে সরকার বিদেশ থেকে বেশি মূল্যে সার ক্রয় করছে। পাশাপাশি কারখানা কাফকোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে সরকার। আবার সেখানে উৎপাদিত সার আন্তর্জাতিক দামে কিনছেও বিসিআইসি।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বিসিআইসি ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (কেজিডিসিএল) জানানোর পরও গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না। কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন বলেন, সরকারের নির্দেশনা পেলে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হবে। 

আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস নেই সাত মাস
আশুগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্যাসের অভাবে গত সাত মাস আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনিক কমপক্ষে এক হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৈনিক ক্ষতি প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়সহ এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। এদিকে কারখানা বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্টের আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বঞ্চিত বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে। 

জানা গেছে, কারখানা চালু রাখতে দৈনিক ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গত বছরও ৯ মাস কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু গত মার্চ থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। ফলে এ সময়ে কমপক্ষে দুই লাখ ৭২ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। 

তবে কারখানা বন্ধ থাকলেও কেমিক্যাল কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ মাসিক ছয়-সাত কোটি টাকা ব্যয় হয়। 
কারখানার সিবিএর সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার সমকালকে বলেন, ২০১২ সাল থেকে গ্যাস রেশনিংয়ের নামে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয় এবং পাঁচ বছরের মাথায় লাভজনক কারখানাটি অলাভজনক ও লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। 

বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের ডিজিএম প্রকৌশলী (সঞ্চালন) জাহিদুর রহমান জানান, আশুগঞ্জ কারখানায় গ্যাস সরবরাহের কোনো সিদ্ধান্তের কথা তাঁর জানা নেই। 

এ ব্যাপারে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার নাথ ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কারখানার প্রধান সমস্যা এখন গ্যাস না থাকা। গ্যাস পাওয়া গেলে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। কারখানার গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে বিসিআইসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। 


 

আরও পড়ুন

×