উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ বললেন
কন্যাশিশুরা বিপদে পড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সহায়তা
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘কন্যাশিশু-২০’ বই ও পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। তিনি কন্যাশিশুদের নিরাপত্তায় সরকারের পাশাপাশি কমিউনিটিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ফো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
শিশুরা বিপদে পড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ তথ্য জানিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেছেন, ‘আমরা একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কন্যাশিশুদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের কর্মীদের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে শিশুরা কোনো বিপদে পড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সহায়তা পেতে পারে।’
গতকাল বুধবার সকালে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৫ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টা বলেন, ‘কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি কমিউনিটিকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
দিবসটি উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, শিশু একাডেমি এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের যৌথ আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাবি সুইমিং পুল গেট (দোয়েল চত্বরসংলগ্ন) থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এর উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। এটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি’ শিরোনামে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি। এর পর দুই শিশু তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।
সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কন্যাশিশুরা কোনোভাবে সমাজের বোঝা নয়। সুযোগ পেলে তারাও ছেলেদের মতো শিক্ষিত, যোগ্য এবং বিশ্বজয়ী হতে পারে। তাদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, মেয়ে ও ছেলেরা যাতে সমানতালে বেড়ে উঠতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু মেয়েরা পিছিয়ে, তাই তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ জরুরি।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ বলেন, সমাজ এখনও কন্যাশিশুদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দিতে পারেনি। তাদের বিকাশে সবাইকে কাজ করতে হবে।
শিশু একাডেমির মহাপরিচালক দিলারা বেগম বলেন, সমাজে এমন কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে মেয়েদের নিচে রাখা হয়। অথচ তারাই ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আলোচনা শেষে ‘কন্যাশিশু-২০’ বই ও পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
- বিষয় :
- কন্যাশিশু
