ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কমিশনের সুপারিশে নাখোশ জামায়াত, নভেম্বরে চায় গণভোট

কমিশনের সুপারিশে নাখোশ জামায়াত, নভেম্বরে চায় গণভোট
×

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | ২৩:২৬ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:১৭

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ সরকারকে দিয়েছে তাদের সন্তুষ্ট নয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, সুপারিশে গণভোটের সময়সূচি নেই। জামায়াতের দাবি, নভেম্বরেই হতে হবে গণভোট।

মঙ্গলবার সরকারকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতাবলে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫' জারির সুপারিশ করেছে কমিশন।

এতে বলা হয়েছে, আদেশের ওপর হবে গণভোট। গণভোটে আদেশ অনুমোদিত হলে আগামী নির্বাচনে দ্বৈত ভূমিকার সংসদ গঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনে কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার (গাঠনিক ক্ষমতা) সম্পন্ন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।

জামায়াতও এ দাবি করে আসছে গত কয়েক মাস ধরে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু সুপারিশে বলা হয়নি, আদেশ কে জারি করবে। জামায়াতের অবস্থান হলো, আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতি নয়, আদেশ জারি করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে। যা সুপারিশে নেই।

কমিশন সুপারিশে জানিয়েছে, আদেশ কে জারি করবে তা সরকার ঠিক করবে। আদেশ জারির পর থেকে আগামী নির্বাচনের দিন পর্যন্ত, যেকোনো সময়ে গণভোট হতে পারে। সরকার সময় নির্ধারণ করবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটে সংস্কারের ফয়সালা করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। নভেম্বরের মধ্যে গণভোট করে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তপশিল ঘোষণা করেও ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন সম্ভব। জামায়াত একেই যৌক্তিক মনে করে।

কমিশনের প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে, আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না করলে, অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করে রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের খসড়া বিল পাস বলে গণ্য হবে। 

সুপারিশে যুক্ত আদেশের দ্বিতীয় খসড়ায় বলা হয়েছে, পরিষদ ২৭০ দিনে জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত প্রথম পদ্ধতিকেই সমর্থন করে। জুলাই সনদে রয়েছে, সেভাবেই সংস্কার করতে হবে।

গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, আদেশের খসড়ায় তা নেই। আদেশে পিআর পদ্ধতে উচ্চকক্ষ গঠনসহ সংবিধান সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৪(২) দফায় বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার সম্পন্নের ৪৫ দিনের মধ্যে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাত পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, এ সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়। নভেম্বরে গণভোট করে, একই সঙ্গে সংসদের উভয়কক্ষের নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে করতে হবে।

আরও পড়ুন

×