ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিক্ষককে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট ডাকসুর

শিক্ষককে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট ডাকসুর
×

শিক্ষককে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করে ছাত্র প্রতিনিধিরা। ছবি-সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৪৬ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৫১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই চার্টার: ইয়ুথ পলিসি ডায়ালগ’ নামক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক’ অ্যাখ্যা দিয়ে ওয়াক আউট করেছেন ডাকসু, জাকসু এবং রাকসু প্রতিনিধিরা। তারা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। পরে তাদেরকে ছাড়াই সভা শেষ হয়।

বুধবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সপ্তম তলায় সেমিনার রুমে ‘অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাব’ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। অধ্যাপক আইনুল সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ‘অ্যাপ্লাইড ডেমোক্রেসি ল্যাবের’ পরিচালক পদে দায়িত্বরত।

২০২৩ সালে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আওয়ামীপন্থি নীলদল থেকে প্রেরিত ৮৬৬ শিক্ষকের বিবৃতিতে ৩১০ নম্বরে অধ্যাপক আইনুলের নাম রয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের জিএস মাজহারুল ইসলাম, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেখানে মাইক হাতে এস এম ফরহাদকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকের অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম উপস্থিত আছেন, যিনি ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস রয়েছে, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সহযোগী ছিলেন। আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষক এখানে থাকা লজ্জাজনক। তিনি এখানে উপস্থিত আছেন, তাই আমরা ওয়াকআউট করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল জুলাই সনদ, অথচ সেখানে একজন শিক্ষক উপস্থিত আছেন, যিনি জুলাইবিরোধী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানে সকল ছাত্র প্রতিনিধিরা কথা বলেছে। ফরহাদও কথা বলেছেন। তবে শেষ পর্যায়ে হঠাৎ তিনি দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেন। আমি অবাক হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে স্বৈরাচারের দোসর বলা হলো, আমি তো এমন ছিলাম না। আমি নিয়মিত মানবাধিকার গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করি। আমার মানহানি হয়েছে- আমি প্রুভ চেয়েছি, আমি বলেছি আমি কখনও কোথাও সাইন করিনি। আমি ডাকসু ইলেকশনে দায়িত্বে ছিলাম, আমাকে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি।’

২০২৩ সালের বিবৃতির ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক আইনুল দাবি করেন, ‘আমি এ ধরনের বিবৃতিতে কনসেন্ট দেইনি। বিগত সময়ে প্রচুর শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করেছে, নীলদল যদি সকল শিক্ষককে স্বাক্ষর করেছে বলে মনে করে, তাহলে তো কিছু বলার থাকে না।’

আরও পড়ুন

×