স্কুলে ভর্তি নীতিমালা জারি
ক্যাচমেন্ট এরিয়া আর কোটা মিলে খেয়ে ফেলছে ৬৩% আসন
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:২৩
সরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এবারও লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অবশ্য, কাঙ্ক্ষিত মানের স্কুলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। লটারি ব্যবস্থা চালুর মূল উদ্দেশ্য প্রতিযোগিতা কমানো হলেও বিভিন্ন কোটা রাখাকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জারি করা এ নীতিমালায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও ভর্তিতে এই লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, আগের বছরের মতো এবারও ৬৩ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ— ৪০ শতাংশ ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা। স্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ কোটা বরাদ্দ থাকলেও বহু অভিভাবক এর বিরোধিতা করছেন; বিশেষত যারা কর্মসূত্রে রাজধানীতে অস্থায়ীভাবে থাকেন। তাদের মতে, এ কোটা তাদের সন্তানদের সুযোগ সংকুচিত করে।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাচমেন্ট কোটা রাখার লক্ষ্য হলো ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমানো, পাশাপাশি শিশুদের নিজেদের এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। তবে এর প্রয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে— ক্যাচমেন্ট কোটায় আবেদন করতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক। এতে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
রাজধানীর মতিঝিলে বসবাসকারী আনিছুর রহমান জানান, গত বছর পছন্দের স্কুলে সন্তানের নাম উঠেনি।
একই অভিজ্ঞতার কথা শোনান অভিভাবক ফাহমিদুল হকও। তার অভিযোগ— অনলাইনে অনেক আবেদনকারী ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন এবং লটারিতে সুযোগ পেলে অর্থের বিনিময়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
ক্যাচমেন্ট ছাড়াও ২৩% বিশেষ কোটা রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫%, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের জন্য ১%, সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য ১০%, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ২%, একই স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৫%, এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ বাধ্যতামূলক।
নীতিমালায় উল্লেখ না থাকলেও প্রচলিত রয়েছে আরেকটি ‘অলিখিত কোটা’। দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানরাও বিশেষ সুবিধার আওতায় ভর্তি হন।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মীদের জন্য থাকা কোটা বাস্তবে খুবই সীমিত; তবে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। তিনি আরও জানান, ক্যাচমেন্ট কোটায় অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে, তাই কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগ করা জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান বলেন, মন্ত্রণালয়ের সভায় অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী এবারও লটারির মাধ্যমে ভর্তি সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আপত্তি উঠলে বা নতুন প্রস্তাব এলে মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করবে।
