ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ

দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ
×

ঢাকার আশপাশের নিম্নাঞ্চল ডুবতে শুরু করেছে। সাভারের হেমায়েতপুরের ছবি - ফোকাস বাংলা

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২০ | ১২:০০

বিভিন্ন জেলায় নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও ১৭টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও অনেক জেলায় স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বানভাসিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বেড়িবাঁধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তরা এখনও নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ছে। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে চর্মসহ পানিবাহিত রোগ। গতকাল মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলেছে, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে ঢাকা সিটির নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিও। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, মানিকগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
গাইবান্ধা :গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘটসহ সব নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি থেকে এখনও পানি নেমে যায়নি। বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। বিশেষ করে চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় অধিকাংশ কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পানি কমতে থাকায় বন্যার্তদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সদর উপজেলাসহ ছয়টি উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ :গোপালগঞ্জে মধুমতি, কুমার, শৈলদহ, বাঘিয়ারকুল ও মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলার ২০টি গ্রামের অন্তত আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ পরিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে।
নেত্রকোনা :জেলায় বিভিন্ন নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে ভেঙে গেছে। চারপাশে পানি থাকায় মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। নৌকা, কলাগাছের ভেলা দিয়ে এবং পানি মাড়িয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) :শিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকায় বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিন-চার দিনে কয়েক সেন্টিমিটার পানি কমলেও উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের রাস্তা পানিতে ডুবে রয়েছে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) :কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কালিয়াকৈর উপজেলায় উজান থেকে বয়ে আসা বন্যার পানি ও অতিবৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। প্রতিদিনই বাড়ছে বিভিন্ন নদনদীর পানি। তলিয়ে যাচ্ছে বহু ফসলি জমি ও মৎস্য খামার এবং ইটভাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক সড়কগুলোর অনেক অংশ তলিয়ে গেছে। কালিয়াকৈর পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পৌরসভার উদ্যোগে লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিয়াকৈর ফাজিল মাদ্রাসা এবং গোলামনবী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার অন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।
রাজবাড়ী :পদ্মা নদীর পানি কমতে থাকায় রাজবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে জেলার তিনটি পয়েন্টেই এখনও পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরেই রয়ে গেছে। বানভাসি মানুষ এখনও মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। বন্যায় বেড়িবাঁধ ও স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি।


আরও পড়ুন

×