ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অধ্যাদেশ জারি করলেই সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

অধ্যাদেশ জারি করলেই সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২২:৪৫

ঢাকার সাত কলেজের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মতামত ও দাবি উপেক্ষা করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন শুরু করা হবে। আজ সোমবার সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়।

অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের স্বাতন্ত্র্য ও অস্তিত্ব রক্ষা এবং প্রস্তাবিত স্কুলিং মডেল বাতিলের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হয়ে তারা অবরোধ শুরু করেন। এক ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় তারা ‘স্কুলিংয়ের ঠাঁই নাই, ঢাকা কলেজের আঙিনায়’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘স্কুলিংয়ের ঠিকানা— এই ক্যাম্পাসে হবে না’— এ ধরনের নানা স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনের খসড়ায় থাকা স্কুলিং মডেলের মাধ্যমে সাত কলেজ— বিশেষ করে ঢাকা কলেজের অনার্স, মাস্টার্স এবং উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের দাবিতে, মডেলটি সাত কলেজের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ; অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মতামত উপেক্ষা করেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

অবরোধে আটকে থাকা জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হন। মিরপুর সড়ক, নীলক্ষেত-নিউমার্কেট, ধানমন্ডিমুখী সব সড়কেই যানবাহন দীর্ঘসময় স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। ধানমন্ডিগামী দোকান কর্মচারী রাশেদুল ইসলাম বলেন, জ্যাম ধানমন্ডি পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। গাড়ি চলছে না। হেঁটেই নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছি। এভাবে হঠাৎ রাস্তা বন্ধ হলে আমাদেরই সবচেয়ে বেশি ভূগতে হয়। পথচারী আফসানা খাতুন বলেন, নিউমার্কেট থেকে বাসায় ফিরছিলাম। কিন্তু কোনো গাড়ি নেই। হাঁটা ছাড়া উপায় ছিল না।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সাত কলেজের দীর্ঘ ইতিহাস, স্বকীয়তা ও সুনাম নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শত বছরের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে তারা রাজপথে নেমেছেন।

ঢাকা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী নুরুজ সাফা বলেন, ঢাকা কলেজের পরিচিতি ও ঐতিহ্য নতুন স্কুলিং মডেলের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থেই শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে রাস্তায় নেমেছি।

প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন এবং সড়ক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন।

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও বাতিল করা হয়।

এদিকে, রাজধানীর তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজায় সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে আহবায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা’ বাক্যাংশটি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কাঠামো বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা সাত কলেজ ইস্যুকে আরও জটিল করবে।

রাষ্ট্রের মাথাপিছু ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বঞ্চিত। এমনকি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় করা হয়। সাত কলেজসহ দেশের সব সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধি, আবাসন পরিবহন সুবিধা, শিক্ষক সংকট ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষকদের দাবি তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর সর্বস্তরে স্থায়ীভাবে কেবল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

কর্মসূচি ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো– ২ ডিসেম্বর (আগামীকাল) গণজমায়েত (সময়- সকাল ১০টা। স্থান– মাউশি প্রাঙ্গণ), ৩ ডিসেম্বর সারাদেশের সব সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং, ৪ ডিসেম্বর পাবলিক পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি, ৬ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সারা দেশের সব সদস্যের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা করা হয়, যদি ঢাকার ৭ কলেজের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মতামত ও দাবী উপেক্ষা করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি (টোটাল শাট ডাউন) শুরু হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

×