এয়ার শো
আকাশে রঙের খেলা, নেমে এলো লাল-সবুজ পতাকা
বিজয় দিবসে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এয়ার শোতে প্যারাট্রুপার - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৭ | আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
আকাশে নানা রং ছড়াতে ছড়াতে ছুটছিল বিমানগুলো। হেলিকপ্টারগুলো বহন করছিল জাতীয় পতাকা ও সশস্ত্র বাহিনীর পতাকা। এ ছাড়া ফাইটার জেটের প্রদর্শনী, প্যারাস্যুটিং– সবই মুগ্ধ করেছে দর্শনার্থীদের। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘এয়ার শো’।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় চলে এই আয়োজন। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় এয়ার শো দেখতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীর ঢল নামে।
পৌনে ১০টার দিকে আগারগাঁওসংলগ্ন পুরোনো বিমানবন্দরের ফটকে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তল্লাশি শেষে সবাইকে একে একে প্রবেশ করানো হয়। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল জাতীয় পতাকা। কপালে জাতীয় পতাকার আদলের ফিতা কিংবা বিজয় দিবস লেখা কাপড় বেঁধে আসেন অনেকে। অনেক পরিবারের লোকজন লাল-সবুজ পোশাক পরে আসেন বিজয় উৎসবের এই প্রদর্শনী উপভোগ করতে।
গত সোমবার তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছিল সকাল ১০টায় জমকালো এয়ার শো আয়োজনের কথা। কিন্তু জনসমাগম হলেও অনুষ্ঠান শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এই এয়ার শো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। একই সঙ্গে পুরোনো বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় কোনো ধরনের ড্রোন না ওড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
পতাকা হাতে ৫৪ জনের প্যারাস্যুটিং
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা হাতে সর্বাধিক প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এ আয়োজনে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার একযোগে পতাকা নিয়ে স্কাই ডাইভিং করেন। দুপুর ১২টার দিকে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্যারাস্যুটিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন বাহিনী প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের এ পতাকাবাহী স্কাই ডাইভ প্রদর্শন বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস হবে বলে জানানো হয়।
১২ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে এ ফ্রি ফল জাম্পে অংশ নেন সেনাবাহিনীর ৪৬, নৌ বাহিনীর পাঁচ, বিমান বাহিনীর দুজন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
৪৯ থেকে ৫৪ নম্বরধারী ফ্রি ফল জাম্পাররা সুদানে নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর নাম বুকে ধারণ করেন। এ ফ্রি ফল জাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং ড্রপ জোন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করে। এখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সময় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- বিষয় :
- বিজয় দিবস
- সশস্ত্র বাহিনী
