আনন্দ ও প্রার্থনায় বড়দিন উদযাপন
ছবি : সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২৩:৫৯
রাজধানীতে শীত যখন জেঁকে বসার চেষ্টা করছে, তখন এর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে বড়দিনের উষ্ণতা। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে ঢাকার গির্জা, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। লাল পোশাকের সান্তা ক্লজকে দেখেই উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে শিশুরা। কারও হাতে চকলেট, কারও হাতে ছোট উপহার; চোখজুড়ে বিস্ময়। বড়দিনের সকালে ঢাকার গির্জা প্রাঙ্গণে শিশুদের আনন্দই যেন উৎসবের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছবি।
এভাবে বিভিন্ন গির্জায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে বড়দিন উদযাপিত হয়েছে।
বিশেষ প্রার্থনা, খ্রিষ্টীয় গান, শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে যিশুর আগমন উদযাপন করেন খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা। প্রার্থনায় তারা দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন।
এবারের উৎসবে আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও ছিল। কারণ দেশের বেশ কয়েকটি খ্রিষ্টান চার্চ এবং ব্যক্তির কাছে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আর্চওয়ে ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে চার্চে প্রবেশ করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। ঢাকা মহানগরের ৬৫ গির্জা ও আশপাশ এলাকা সিসিটিভির আওতায় নেওয়া হয়েছিল।
শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই পুরান ঢাকা, তেজগাঁও, ফার্মগেট, গোপীবাগ, কাকরাইলসহ বিভিন্ন গির্জায় ভক্তের ভিড় দেখা যায়। গির্জা সাজানো হয় রঙিন আলো, ক্রিসমাস ট্রি ও যিশুখ্রিষ্টের ভূমিষ্ঠ হবার স্থানের আদলে।
রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা হলি রোজারিও চার্চে (পবিত্র জপমালা রাণীর গির্জা) সকাল ৭টায় প্রার্থনা সভা শুরু হয়। প্রার্থনা শেষে যিশুভক্তরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ গির্জা ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশমুখে লাল-সাদা পোশাকে সান্তা ক্লজের আদল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গির্জার ঠিক সামনে শিশু যিশু কোলে মা মেরির ভাস্কর্য। গির্জার ভেতরটা জুড়ে ছিল ‘মেরি ক্রিসমাস’ লেখা সাজসজ্জা। সেখানে বানানো হয় ‘গোশালা’, যেখানে যিশু জন্ম নিয়েছেন।
রোজারিও চার্চে পরিবারের সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেন তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা ক্লারা ডি কস্তা। তিনি বলেন, ‘সারাবছরের কষ্ট-দুঃখ-ভয়ের কথা আজ প্রার্থনায় তুলে ধরেছি। বড়দিন আমাদের কাছে শুধু উৎসব নয়। এ দিনটি ভালোবাসা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়।’ এ সময় ৮ বছর বয়সী শিশু ড্যানিয়েল বলছিল, ‘সান্তা ক্লজ আমাকে গিফট দিয়েছে।’
রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরিস গির্জা, রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চ, মহাখালীর লুর্দের রাণীর গির্জা, লক্ষ্মীবাজারের ক্রুশ ধর্মপল্লী, মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা গির্জা, মিরপুর-২ এর মিরপুর ক্যাথলিক গির্জা, কাফরুলের সেন্ট লরেন্স চার্চ এবং মণিপুরিপাড়া, বারিধারাসহ বিভিন্ন এলাকার গির্জায় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে বড়দিন উপলক্ষে ঢাকার বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও ছিল বিশেষ আয়োজন। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল শিশুদের জন্য আয়োজন করে দিনব্যাপী ‘ক্রিসমাস কিডস কার্নিভ্যাল’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুদের বিনোদন ও আনন্দের জন্য ছিল নানা আয়োজন। আয়োজন ছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেও।
এ ছাড়া হলিডে ইন, র্যাডিসন, লা মেরিডিয়েন, দ্য ওয়েস্টিন, ওয়েসিস, ঢাকা রিজেন্সিসহ বড় হোটেলগুলোও সাজানো হয় রঙিন বাতি, ফুল আর ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে।
