নারী ও সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন-হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধিতে মহিলা পরিষদের উদ্বেগ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:৪৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, নির্যাতন, হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সংগঠনটি বলছে, নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এসব সহিংসতা এবং ভীতিকর পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা।
গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি নির্মম ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, খোকন দাস ও অমৃত মণ্ডলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি নরসিংদীর পলাশে মনি চক্রবর্তী নামক এক মুদি দোকানিকে খুন করা হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর হবিগঞ্জে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কামদেব দাস নামে এক যুবকের মরদেহ।
সংগঠনটি জানায়, সহিংসতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নারীরাও। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে ধর্ষণ, গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। একই জেলার সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতির সময় নারী সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতির আড়ালে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা লোকলজ্জা ও ভয়ে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ করতে পারছেন না।
মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের শিকার হচ্ছেন। একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জেলা প্রশাসককে তাঁর দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্ট হয়ে নানাভাবে অপমান ও হেনস্তা করা হয়েছে, যা দায়িত্ব পালনকারী সব কর্মকর্তার জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। পাশাপাশি দলীয় প্রতীকে ভোট না দিলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণকে দেশ থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনটি মনে করে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব ধারাবাহিক ঘটনা নারী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণের মনে গভীর ভীতি তৈরি করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
