ফেলানী হত্যার বিচারসহ সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫১ | আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানী খাতুনসহ সীমান্তে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হত্যা বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। গতকাল বুধবার বিজয়নগর ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে বিজয়নগর-পল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে জাগপা সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ‘ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাইনি। ২০২৫ সালে সীমান্তে ৩৪ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। কোনো বিচার-সালিশ নেই। সমাধান একটাই, মেরুদণ্ড সোজা করে পাল্টা জবাব দিতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিউল আনোয়ার প্রমুখ।
বেলা ১১টায় একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ ও আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলন। আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক ও ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শওকত আমীনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আধিপত্য প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক হারুনুর রশীদ খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সদস্য সচিব ইলিয়াস রেজা, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ওবায়দুল হক, মায়ের ডাকের কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুর হোসেন ঈসা, রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুফতি জসিম উদ্দিন ইয়াসিন, নাজিম উদ্দিন, রাজু আহমদ খান, শহীদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘ফেলানী ১৫ বছরের এক কিশোরী ছিল। কোনো অপরাধী বা অস্ত্রধারী ছিল না। সে শুধু বাবার হাত ধরে বেঁচে থাকার আশায় সীমান্ত পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে গুলি করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি হত্যা নয়, জীবনের অধিকার লঙ্ঘন, শিশু অধিকারের চরম অবমাননা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতার নগ্ন উদাহরণ।’
মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, ‘এ ধরনের হত্যার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো স্বাধীন তদন্ত, দেওয়ানি আদালতে বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু তা করা হয়নি।’
এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একই দাবিতে সমাবেশ করে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। এতে অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান, গবেষক তাসকিন ফাহমিনসহ সংগঠনটির নেতারা এবং সীমান্তে নিহত অনেকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- ফেলানী
- ফেলানী হত্যা দিবস
- সীমান্ত হত্যা
- ভারত
