স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা
শিল্পী মতলুব আলী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী
শিশু একাডেমির শিশু জাদুঘর মিলনায়তনে গতকাল রোববার ‘মতলুব আলী স্মরণে কিছু কথা, কিছু গান’ অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:২২
চিত্রকলা, সংগীত, সাহিত্য ও গবেষণায় সমানভাবে বিচরণ করা এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মতলুব আলী। রংতুলির ক্যানভাস থেকে গণসংগীতের মঞ্চ– সবখানেই তিনি রেখে গেছেন মানবতা, প্রতিবাদ ও সাম্যের বার্তা।
গতকাল রোববার রাজধানীর শিশু একাডেমির শিশু জাদুঘর আর্ট গ্যালারিতে ‘মতলুব আলী স্মরণে কিছু কথা, কিছু গান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁকে এভাবে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মানব শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি গোষ্ঠী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক এই ডিন ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পী, গীতিকবি, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। মানবতাবাদী এই মানুষটির জীবনাবসান ঘটে গত বছরের ৪ নভেম্বর। স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অধ্যাপক মতলুব আলী ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন মানবতাবাদী ও উদ্দীপনামূলক গান। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্ম নিয়েও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সুরের আশ্রয়ে গান পরিবেশন করেন মতলুব আলীর মেয়ে আলী পুষ্পিতা মউরি ও দৌহিত্র নিধি।
স্মৃতিচারণে চিত্রশিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই মতলুব আলী ছিলেন নিষ্ঠাবান ও প্রতিভাবান। শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর শিল্পকর্ম ও গ্রন্থগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।
চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, চিত্রকলার পাশাপাশি গান, সাহিত্য ও গবেষণায় তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল। তিনি মূলত গানের মধ্য দিয়েই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও গবেষক মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক জাগরণে সংগীত ও চারুকলায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে গীতিকবি হিসেবে তিনি আজীবন সক্রিয় ছিলেন।’
নগর পরিকল্পনাবিদ ও চিত্রসমালোচক ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্পকলা ও গান-কবিতায় তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
শিক্ষাবিদ কাজী মদিনা বলেন, ‘মতলুব আলী ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ, যিনি নিবেদিতভাবে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ ও চর্চা করেছেন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী বীরেন সোম, দুলাল গাইন, কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, আবৃত্তিশিল্পী আশরাফুল আলম ও সমাজসেবী খুশী কবির। সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন চিত্রা সুলতানা, জাকির হোসেন ও ছায়ানটের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মতলুব আলীর ছেলে আলী পূষণ রেহান নির্মিত একটি ভিডিও সংকলন প্রদর্শন করা হয়।
- বিষয় :
- চিত্রশিল্পী
