শেষ হলো নবম নন-ফিকশন বইমেলা
গ্রন্থ সম্মাননা পেলেন নূরুল কবীর ও ইউসুফ সিদ্দিকি
ছবি : সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:১৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ প্রাঙ্গণে তিন দিন ধরে চলা নবম নন-ফিকশন বইমেলা গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। এবারের ‘নন-ফিকশন গ্রন্থ সম্মাননা-২০২৫’ পেয়েছেন নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর ও গবেষক মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
প্রকাশকদের মনোনীত বই থেকে বিচারক প্যানেল দুটি বই নির্বাচন করে সম্মাননা দেয়। নূরুল কবীর সম্মানিত হয়েছেন ‘দ্বিরালাপ: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও পূর্বাপর রাজনীতি’ গ্রন্থের জন্য। বইটির প্রকাশক কথাপ্রকাশ। গবেষক মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকি সম্মাননা পেয়েছেন ‘শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা’ বইয়ের জন্য, যা প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন। এবার প্রথমবারের মতো লেখকের সঙ্গে প্রকাশককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। বিচারক ছিলেন অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক ফারুক মঈনউদ্দীন ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নন-ফিকশন বই শুধু তথ্য দেয় না– চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি করে। দ্রুতগতির সংবাদচক্র ও খণ্ডিত মতামতের ভিড়ে যাচাই করা জ্ঞানের প্রয়োজন আরও বেড়েছে। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই মেলার ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।
আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, জাতির উন্নতির এক বড় সূচক বই। কথাসাহিত্যের মতো গবেষণাভিত্তিক বইও জাতীয় অগ্রগতির জন্য জরুরি। ন্যায়-নীতিবোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে এ ধরনের বই আরও বেশি প্রয়োজন।
পুরস্কার নিয়ে নূরুল কবীর বলেন, এটি তাঁর জন্য ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। এর আগে তিনি কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি। জুরি বোর্ডের সদস্য তাঁর কাছে সরাসরি বিষয়টি জানিয়েছেন বলেই তিনি গ্রহণ করতে এসেছেন।
প্রথমা প্রকাশনের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বলেন, ‘শিলালিপি’ বাংলার মিলেমিশে থাকার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন আলোয় তুলে ধরেছে। তাঁর ভাষায়, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা কমে যাওয়া সময়েও এই মেলা উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
কথাপ্রকাশের প্রকাশক জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশকদের সামনে বড় প্রতিযোগিতা পশ্চিমবঙ্গের বাজার। বাংলাদেশের বই পশ্চিমবঙ্গেও সমানভাবে জায়গা পাক। ইউপিএলের পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, বইকে প্রান্তিক পাঠকের কাছে পৌঁছাতে সরকারি সহায়তা জরুরি।
বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক বদরুল আলম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুরুতে বক্তব্য দেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং ধন্যবাদ জানান ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম। এবারের মেলায় অংশ নেয় ৩৯টি প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা। সব স্টলে ছিল ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়। শেষ দিনে হয় র্যাফেল ড্র এবং বিজয়ীরা পেয়েছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- বইমেলা
- নূরুল কবীর
